শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১

*মনের অন্তরালে* (ভৌতিক ও প্রেমের গল্প সংকলন)

            
                 মনের অন্তরালে
 ( ভৌতিক ও প্রেমের গল্প সংকলন)

লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা
দত্তপুলিয়া, নদীয়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।



      রিমি প্রকাশনা


--------------------------------------------------------
প্রথম প্রকাশের তারিখ :- 10/4/2021
ছাপানো বইয়ের সংখ্যা :- 1000 কপি
প্রকাশক :-  রিমি প্রকাশনা
দত্তপুলিয়া, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
যোগাযোগ :- লেখক শংকর হালদার
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর :- 91 8926200021
ইমেইল :- aefg92486@gmail.com 
লেখা আরাম্ভের তারিখ :- 14 জানুয়ারী থেকে 26 জুলাই 2020 পর্যন্ত

গল্পের সংখ্যা :- 
 গ্রন্থস্বত্ব :- শংকর হালদার
প্রচ্ছেদ :- 
কম্পোজ ও প্রিন্টিং :- 
 সতর্ককরণ :- এই গল্প গুলোর কোন অংশ বা সম্পুর্ন প্রকাশিত করা যাবে না। লেখকের অনুমতি ব্যাতিত।
 কপিরাইট আইন লঙ্ঘিত হলে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
--------------------------------------------------------
              গল্পের সূচিপত্র
        গল্পের নাম                পৃষ্ঠা সংখ্যা
1 ভয়ংকর ভূতের নাচ -----
2 অযাচিত প্রেম -------------
3 রাতের আতঙ্ক -------------
4 বসন্তের লাল ওড়না -----
5 পরশ্রীকাতরতা ------------
6 বন্দিদশায় ------------------
7 ধর্ষকের প্রতিশোধ --------
8 গৃহ বধুর অন্তত জ্বালা ---
-----------------------------------------------------
                   লেখকের ছবি
লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা
জন্ম তারিখ :- 14 জানুয়ারী 1968 বাংলায় পৌষসংক্রান্তি রবিবার।
============================
               *ভয়ংকর ভূতের নাচ*

======================================================================

সুমন বলে :- কাকা, আমার টাকা গুলো দাও।
 কাকা বলে:- টাকা এখন দিতে পারবো না।
 সুমন বলে :- 5 হাজার টাকা ধার নিয়েছিল, তিন বছর হয়ে গিয়েছে। 
কাকা বলে :- বর্তমানে, আমি টাকা দিতে পারবো না।

 সুমন বলে :- পাট বিক্রি করলে! টাকা দাও।

 কাকা বলে :- পাট বিক্রি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে, যে দিন পারি সেদিন দেবো বলে হাঁটতে শুরু করে।

 সুমন ভাবছে সহজে টাকা তুমি দেবে না-আজ তোমার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসবো।
 ভাবতে থাকে কি করে রাতে ঘরে ঢোকা যাবে।
অনেক সময় ধরে চিন্তা ভাবনা করতে করতে এক সময়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠে, ভাবে মনে মনে বুদ্ধি পেয়ে গিয়েছি ।

সুমনের বাড়ির পাশে প্রতিবেশী কাকার বাড়ি। সারাদিন বাড়ির উপর নজরদারি করতে শুরু করে এবং সন্ধ্যার সময়ে যখন বাড়ীর সব মহিলারা যার যার কাজে ব্যবস্তা-সেই সুযোগ বুঝে, কাকার ঘরের মধ্যে ঢুকে কিছুক্ষণ পর চুপিচুপি বেরিয়ে আসে।

 রাত যখন গভীর হয়েছে ও সবাই নিদ্রামগ্ন হয়ে পড়েছে-সুমন চুপিচুপি ঘরের দরজার কাছে এসে, দড়ি ধরে টানতেই ঘরের দরজা খুলে যায় কারণ দরজার খিলের সাথে দড়ি বেঁধে রেখে এসেছিল।

 সুমন ঘরের মধ্যে ঢুকে কাকার মশারির মধ্যে একটি প্যাকেট রেখে দেয়।
 বিছানার তলা থেকে আলমারির চাবি নিয়ে ধীরে ধীরে আলমারি খুলে 5,000 টাকা নিয়ে আলমারি বন্ধ করে দেয় এবং নির্দিষ্ট জায়গায় চাবি রেখে দিয়ে ঘরের বাহিরে আসার সময়ে, প্যাকেট টি কাকার বুকের উপর রেখে যায়।

 গরমের রাতে জানালা খুলে শুয়ে আছে প্রতিবেশী কাকা-এই গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই। 
আমাবস্যার রাতের কারণের জন্য চারিদিকের পথ ঘাট ঘর বাড়ি অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
এমনই অন্ধকার নিজেকে নিজেই চেনা যাচ্ছে না।

সুমন জালানার কাছে গিয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে কাকা কে খোঁচাতে শুরু করে,লাঠির মাথায় কয়েকটি পেরেক বাঁধা আছে অর্থাৎ কুপিয়ে কুপিয়ে মাছ ধরার কোজের মতো ।

  লাঠি দিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে করতে এক সময়ে কাকার ঘুম ভেংগে যায় এবং শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জ্বালা ও ব্যাথা অনুভব করে।
ব্যাথা জায়গায় হাত বুলিয়ে আঙ্গুল চোখের সামনে নিয়ে আসতেই ঘুম ঘুম চোখ মেলে সল্প আলোই লাল লাল দেখতে পায় এবং বুকের উপর একটি আলো লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে-আলোগুলো একবার জ্বলছে একবার নিভে যাচ্ছে, ভয় পেয়ে ভূত ভূত বলে চিৎকার করতে থাকে।

বাঁচার জন্য মশারি মধ্যেই ছটফট করতে থাকে ও মশারিতে জড়িয়ে চৌকি থেকে নিচে পড়ে যায়।

 সুমন সুযোগ বুঝে আলোর ভূত কে সরিয়ে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে বলে :- মদন হয়েছে কি ?
 মদন বলে :- ভুত ভুত বলে চিৎকার করতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা বলে :- স্বপ্ন দেখে এমন করছে!
  কোথায় ভূত?
 মদন বলে :- ভূতটি আমার বুকের উপর দিয়ে আলো জ্বালিয়ে চলাফেরা করছিল।
 পরিবারের সদস্যরা বলে :- ঘুমিয়ে পড় নিশ্চিত স্বপ্ন দেখেছিস-পৃথিবীতে ভূত বলে কিছু নাই।
মদন বলে :- না, আমি ভুত দেখেছি।

সুমন ভাবে ভূতের রহস্য হলো :- রাতে বড় ধরনের একটি কোলা ব্যাঙ ও জোনাকি পোকা সংগ্রহ করি। একটি সাদা প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যে একত্রে রেখে, প্যাকেটের মুখ সুতা দিয়ে বেঁধে দেয় এবং সুুচ দিয়ে কয়েক জায়গায় ছিদ্র করে দেয় কারণ জোনাকি পোকা ও ব্যাঙ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে।

প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে জোনাকি পোকা একবার আলো জ্বালায় আবার আলো নিভিয়েে দেয় আর ব্যাঙ আলো দেখে লাফাতে শুরু করে।

                 * সমাপ্ত *
======================================================================


                           *অযাচিত প্রেম*

======================================================================
মদন নামে একজন যুবক কাজের সন্ধানে দিল্লি যাওয়ার জন্য-হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লি গামী সুপারফাস্ট ট্রেনে_অপেক্ষাকৃত সংরক্ষিত অর্থাৎ ওয়েটিং রিজার্ভেশন লিস্টের টিকিট নিয়ে,এক সংরক্ষিত কামরার উঠে পড়ে ।
গাড়িতে ওঠার আগে একবার টিকিট পরীক্ষা করে দেখে নেয় কিন্তু সিট নাম্বার নিশ্চিত সংরক্ষিত হয়নি। 

মদন ভাবে মনে :- অগত্য মধুসূদন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হবে দিল্লিতে।

মদন এক বার ট্রেনের কামরার চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেয় এবং ফাঁকা জায়গা দেখে দুই সিটের মাঝে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।  

অন্য মনস্ক হয়ে আড়চোখে তাকিয়ে দেখে একজন সুন্দরী জানালার পাশের সিটে ও ডান পাশে একজন বয়স্ক মহিলা বসে আছে কিন্তু দুই জন মহিলার মাঝে এক জন বসার মতো জায়গা ফাঁকা রয়েছে।
কিন্তু সাহস করে মদন বসার কথা বলতে পারছে না।

এক সময় হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে এবং ট্রেনের নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে 
শহর-গ্রাম ও বন-জঙ্গল পেরিয়ে দিল্লির দিকে।

মদনের কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সুন্দরী যুবতী বলে :- কোথায় যাবেন ?

মদন বলে :- দিল্লি ।

সুন্দরী মহিলা বলে :- সে তো অনেক দূরের পথ ! মনে হচ্ছে আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন।
আপনারা সিট নম্বর নেই ?

মদন বলে :- না, ওয়েটিং টিকিট কেটেছিলাম- এখনো কনফার্ম হয়নি, হয়তো মাঝখানে কোথায় হয়ে যেতে পারে।

সুন্দরী মহিলা বলে :- তা হলে, আমাদের পাশেই বসে পড়ুন, কতক্ষন আর দাঁড়িয়ে থাকবেন।

বয়স্ক মহিলা, সুন্দরী মহিলার দিকে চেপে বসে এবং জায়গা করে দেয় বসার জন্য।

মদন, বয়স্ক মহিলার পাশে বসে পড়ে।
  
কিছু সময় চুপচাপ কেটে যাওয়ার পর সুন্দরী মহিলা জালনার পাশে থেকে উঠে বয়স্ক মহিলাকে বলে :- ঠাকুমা তোমার গরম লাগছে খুব জালনার ধরে বসে।

সুন্দরী মহিলা সীট পরিবর্তন করে মদনের পাশে এসে বসে পড়ে।

সুন্দরী বলে :- দিল্লিতে কোথায় যাবেন ?

মদন বলে :- কাজের সন্ধানে চলেছি।

সুন্দরী বলে :- জানা শোনা কেউ আছেন ?

মদন বলে :- এক বন্ধু রাজমিস্ত্রির কাজ করে বলেছে দিল্লি স্টেশন থেকে নিয়ে যাবে।

সুন্দরী বলে :- সিট নাম্বার যখন কনফার্ম হয়নি, তবে কি রাত জেগে থাকবেন ?

মদন বলে :- অগত্য মধুসূদন, আপনাদের পায়ের তলায় দুই সিটের মাঝে ফাঁকা জায়গায় না হয়-এক রাত কাটিয়ে দেবো।
বাংলার একটি প্রবাদ বাক্যে বলে :- এক রাত জাগিলে নাকি শত রাত জীবিত থাকা যায়।  

সুন্দরী বলে :-বাবু মশায়, মেয়েদের মন জয় করার জন্য, কবির কল্পনায় আপনার মহিমা প্রকাশ করতে হবে না।

মদন চুপচাপ হয়ে ভাবে মনে :-মনের অজান্তে হয়তো বেশী কিছু বলে ফেলেছি। দেখে মনে হচ্ছে আভিজাত্য সম্পন্ন পরিবারের মেয়ে কিন্তু আলাপ ব্যবহার নমনীয়।
এই সুন্দরী মহিলাকে আমার মনে ধরেছো কিন্তু ভালোবাসার কথা বলার সুযোগ এখনো আসেনি।

দীর্ঘ সময় পরে সুন্দরী মহিলা বলে :-আরো মশায়, কথাবার্তা বলছেন না, সময় কাটবে কেমন করে ? আসুন একদান লুডু খেলার মধ্যে দিয়ে সময় কে পার করে দেয়।

সুন্দরী মহিলা সীটের নীচে থেকে ব্যাগ নিয়ে এসে লুডু বের করে বলে :- মদন বাবু, উপরের শোওয়ার সিটে উঠে চলে আসুন।

মদন ইতস্তবোধ করে ভাবে মনে :- যাবো কি! যাবো না?

বয়স্ক ঠাকুমা দুষ্ট-মিষ্টি মুচকি হাসতে হাসতে মদনের ধাক্কা দিয়ে বলে :-আমার নাতনি ডাকছে শুনতে পাচ্ছো না?
যাও উপরে গিয়ে লুডু খেলা করে, তাহলে মন ও শরীর ভালো থাকবে এবং সময়ও কেটে গিয়ে-ক্লান্তি বোধ দূর হয়ে যাবে।

সুন্দরী মহিলা লুডু খেলা করতে করতে বলে :- আপনার পরিবারে কে কে আছেন ?

মদন বলে :- একমাত্র ভালবাসার মতো বৌ বাদে, মা-বাবা, এক ভাই ও এক অবিবাহিত বোন কে নিয়ে সংসার।

সুন্দরী হাসতে হাসতে বলে :- মদন বাবু, দারুণ বলেছেন।
আমারও আপনার মতোই কিন্তু একটু ব্যতিক্রম ।

মদন বলে :- ঠিক বুঝতে পারলাম না ।

সুন্দরী মহিলা মদনের গুটি কেটে দিয়ে বলে :- নিজের গুটি গুলো ঠিকমত চালাতে পারছেন না, তাহলে সংসার করবেন কি করে ?

মদন বলে :- সংসারের খেলাটাও লুডু ও দাবা খেলার মতো কাটা-কাটি ও হার-জিত থাকবেই। আর সংসার চক্রে মেয়েদের কাছে-ছেলেরা সবসময় হেরেই যায়।

সুন্দরী হাসতে হাসতে ভাবে মনে :- মদনবাবু কি ইঙ্গিত করছে ?

সুন্দরী মহিলা মদনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথার মানে নিজের মনে উপলব্ধি করতে পেরে আনন্দিত হয়ে চিৎকার করে বলে :- ছয়-ছয়-পাঁচ এবার মদন বাবুর দুই, দুইটি গুটি খাওয়া হবে।

  মদন লুডুর দিকে ঝুকে গুটি দেখতে গিয়ে সুন্দরী মহিলার মাথায় ঠোকাঠুকি হওয়ার কারণে মাথায়-মাথায় মিলন ঘটে।

সুন্দরী মহিলা হাসতে হাসতে বলে :- এক ঠোকায় শিং গজাবে মশায় বলে দুই হাত দিয়ে মদনের মাথা ধরে আরও তিন বার ঠুকাঠুকি করতে থাকে।

মদন বলে :- আধুনিক যুগের বিংশ শতাব্দীর মহিলা হয়েও অন্ধ কুসংস্কারকে বিশ্বাস করেন ?

সুন্দরী মহিলা বলে :- কুসংস্কার বড় কথা নয়, অন্তরঙ্গতার কারণ।

মদন বলে :- আপনার পরিচয় জানতে পারলাম না?

হঠাৎ করে সূর্যের আলোকে ঢেকে দিয়ে ঘন কালো মেঘে পরিণত হয়ে যায় সুন্দরী মহিলার মুখমণ্ডল এবং চোখের জল মুছতে মুছতে বলে :- দুঃখের কথা আর কি বলবো ?

আমার স্বামী মদন মোহনের সঙ্গে এক বছর করেছি সংসার কিন্তু ছয় মাস আগে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন । 
সেই থেকেই আমি চন্দনা, রূপ যৌবনের সৌরভ হারিয়ে বিধবা হয়ে আছি কিন্তু স্বামী সন্তানাদি কিছুই রেখে যাননি।  
এখনো কাহারো সঙ্গে-নতুন করে মন দেওয়া নেওয়া হয়নি।
বাবা-মা ও ঠাকুমার সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছি-ওখানে বাবার বড় ব্যবসা ও নিজস্ব তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি আছে। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা বেড়াতে গিয়ে ছিলেন।

প্রকৃতির নিয়মে দিনের আলো বিদায় নিয়ে চলে যায়-নেমে আসে সন্ধ্যা এবং ধীরে ধীরে সন্ধ্যা থেকে রাত হয়ে যায় ন'টা। 

সুন্দরী মহিলা চন্দনা, রাতের খাবারের জন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে মদন সহ সবাই একসঙ্গে খাওয়ার ব্যবস্থা করে।
খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর চন্দনা বলে :- মদন বাবু, আমাদের এক জন ব্যক্তির আসার কথা ছিল কিন্তু কোনো কারণবশত আসতে পারেননি।

আমাদের কারখানার ম্যানেজারের কাজ করার কথা হয়েছিল।
আপনি উপরের ডান দিকের সিটে গিয়ে শুইয়ে পড়ুন। 
একজন বাঙালি হয়ে আরেক জন বাঙালিকে কাঙ্গালী করতে পারি না।

মদন বলে :- আপনাদের কাছে চির ঋণী হয়ে গেলাম।

হালকা মুচকি হাসি দিতে দিতে চন্দনা বলে :- সময় সুযোগ পেলে ঋণ শোধ করে দেবেন।
আমিও আপনার সোজাসুজি বিপরীত দিকে শুয়ে পড়বো-যদি কোন বিপদ ঘটে, তাহলে হাত বাড়ালেই সাহায্য করতে পারবে।

মদন শুয়ে পড়ে, চন্দনাকে নিয়ে কল্পনার জগতে ডুবে দেয় এবং চন্দনা কামরার আলো-আঁধারি তে মদনের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকে আর মদনের রুপ যৌবন সৌন্দর্য কল্পনার মাধ্যমে উপভোগ করতে করতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে চন্দনা, দুষ্টুমি করার মধ্যে দিয়ে মদনের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় এবং মদনের দেহে হাত রেখে বলে :- মাত্র দুই হাত লাফ লাভ দেওয়ার সাহস নেই কিন্তু মহা সংসারের জলময় সমুদ্রে সাঁতার কাটবেন কি করে ? 

চন্দনা ভাবে মনে :- মদন একবার ভালবাসার হাত বাড়ালেই-দুটি হৃদয়ের মিলন ঘটে যেতো,রাতের অন্ধকারে সবার অলক্ষ্যে।

মদন ঘুমঘুম চোখে বলে :- কি হয়েছে ?

চন্দনা বলে :- অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে।
তা মদনবাবু, পড়াশোনা কতদূর 
করেছেন ?

মদন বিরক্তি হয়ে বলে :- এই সামান্য কথা জানার জন্য, আমার স্বপ্নটাকে দিলে নষ্ট করে?
এপাস-ওপাস, নীচের পাস,উপরের পাস, মধ্যে খানে ধপাস করে বিয়ে পাস।

চন্দনা বলে :- চলবে, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে বাস্তবে ফিরে এসো-হাতমুখ ধুয়ে নাও চা পান করবো, তোমার জন্য বাবা-মা সহ সবাই অপেক্ষা করে বসে আছে।

মদন বলে :- এখনোও হয়নি ।

চন্দনা অভিমানের সুরে বলে :- তুমি, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রাজ কুমারীর স্বপ্ন দেখলে হবে কি করে ?

সারাদিন নানারকম অন্তরঙ্গতার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে, নানা রকম কথাবার্তা এবং উভয়ের মধ্যে চেনাশোনার জন্য-বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে চলতে থাকে প্রশ্ন-উত্তর।

পৃথিবীর বুকে দিনের শেষে সন্ধ্যা নেমে আসে ।

চন্দনা বলে :- মদন বাবু এক ঘন্টা পরে দিল্লি পৌঁছে যাবে কিন্তু কিছু মনে না করলে, একটি কথা বলি ।

মদন মনের অজান্তেই বলে ফেলে :- বল কি বলতে চাও!
তুমি কি আমার পর, কিছু জানার জন্য অনুমতি নিতে হবে ? 

চন্দনা আনন্দে পুলকিত হয়ে বলে :- আমাদের সঙ্গে চলে,বাবা মা কে তোমার বিষয়ে বলেছি। যেখানেই কাজ করতে যাও না! কেন ?
সব জায়গাতেই কাজ করতেই হবে কিন্তু এলাকার মানুষের সঙ্গে থাকা এবং তাকে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করতেই পারি।

মদন কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ হয়ে যায়।

নীরবতার মধ্য দিয়ে ট্রেন দিল্লি স্টেশনে এসে পৌঁছে যায় ।

মদন মনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে,ট্রেন থেকে নামার আগেই সাহস সঞ্চয় করে-চন্দনার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে।

চন্দনা আমাবস্যার অন্ধকারের মতো মুখ করে বলে:- কিছু বলতে চাও?

মদন সকলের সামনেই চন্দনার হাত ধরে বলে :- চলে তবে, আপন জনের সঙ্গেই থাকি কিন্তু চন্দনা কখনোই ছেড়ে দেবে না'তো এই হাত ?
                       * সমাপ্ত *

                  ======================================================================


                          *বসন্তের লাল ওড়না*

======================================================================

প্রকৃতির নিয়মে শীতের শেষে বসন্তের আগমনে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালে চলছে বসন্তের উৎসব।
প্রকৃতির লীলা খেলায় মেতে উঠেছে বসন্তের আগমনের বার্তায় নর-নারীর মনে লেগেছে দোল উৎসবের রঙ।
এই বসন্ত আসিলো শিশু-কিশোর- যুবক-যুবতী ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই মেতেছে আনন্দে।

প্রতি বছর‌ রাঢ় বঙ্গে বসন্ত উৎসব পালিত হয়-বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিময় জায়গা ,শান্তির নিকেতনে।

দক্ষিণ বঙ্গের বনভূমি থেকে বাসন্তী মজুমদার।
শান্তি নিকেতনে আগমন করছে বসন্তের আনন্দ উপভোগ করতে।

খোলা আকাশের নীচে-ফাঁকা জায়গা-বনের মধ্যে-বনময় পরিবেশে, চারিদিকে বিভিন্ন গাছ-পালায় সম্মোহিত। 
বনের মাঝে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ অবিরাম চলতে থাকে-কোকিলের কুহু কুহু সুরের মাধ্যমে বলে চলে বসন্ত আসিলো-প্রকৃতির অন্তরে, রৌদ্রের তাপে চোখ গেলো- হে নারী কথা কও প্রিয়জনের সঙ্গে,
বনে ফুল ফুটেছে গাছে গাছে।
বুনোফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে নাকে-বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে-আপন খেয়ালে নদীর জল। বসন্তের আনন্দে নদীর জল ছল ছল শব্দ করে-সকল মানব জাতি কে আলিঙ্গনের আহ্বান জানান।
নদী শব্দের মাধ্যমে বলে :- বসন্তের রঙ মেখে আমার বুকে এসে রসালো লীলার ছলে করবে যদি জলকেলি-আলিঙ্গনের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করে, মনের আছে যত গ্লানি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেবো মনের সব রঙ।

এমন পরিবেশে আজ বসন্তের উৎসব।
নারী-পুরুষ সকলেই নিয়ে এসেছে বিভিন্ন ধরনের রঙিন আবির-খেলবো রং এর হোলি, রঙিন করিবো মন।

দূরের কোনো মাইকে চলছে হোলির গান।
বসন্ত এসেছে রং দেব না তা কি কখনো হয়?

বসন্তের আগমনের উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে চেনা-অচেনা সকল নারী-পুরুষ-প্রকৃতির লীলাময় বনের মাঝে।

বাসন্তী হাতে রঙ নিয়ে একজন অচেনা যুবকের গালে রং মাখিয়ে দিয়ে বলে :- বন্ধু বসন্তের আগমনের কারণে মনে লেগেছে রঙয়ের ছোয়া-আজ তোমাদের কে রং দেবে না-তা কখনো হয়। 

প্রকৃতির মনেও রং লেগেছে শুধু তোমার-আমার নয়- চারিদিকে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে নতুন ফল ফুলে ও কচি কচি পাতা।

মৃদু মৃদু হাওয়া বয়ে চলেছে বসন্তের আগমনের ছোঁয়া লেগেছে বাসন্তীর মনে প্রাণে গাঁয়ে।

হাওয়ার মনে লেগেছে দোল-বাসন্তীর গাঁয়ের ওড়না কে উড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়-ওড়না হাওয়া কে পেয়ে জড়িয়ে ধরে, আপন মনে উড়তে থাকে।

বাসন্তী বলে :- হে হাওয়া ওড়না নিয়ে যাচ্ছে কোথায়! লজ্জা নিবারণ করবে কেমন করে ?
ওড়না দাও , ওড়না দাও বলে চিৎকার করতে করতে দৌড়াতে শুরু করে।

হাওয়ার ইচ্ছা অনুসারে ওড়না উড়ে চলেছে-উড়ন্ত ওড়না আপন গতিতে এগিয়ে যেতে যেতে হাওয়া ভাবে মনে এই ওড়না কোন যুবকের করি দান।

উড়না হাওয়ায় উড়তে উড়তে বসন্ত নামক এক যুবককে দেখতে পেয়ে আনন্দিত হয়ে লাফিয়ে উঠে-
বসন্তের মাথা উপর বসে পড়ে, চোখ মুখ ঢেকে দেয়।

বসন্ত যুবক ভাবে মনে:- এই বসন্তের আগমনের উৎসবে প্রকৃতির লীলা খেলায় হাওয়াই উড়ে এসেছে কোন সুন্দরী রমণীর অসাধারণ ওড়না খানা-
কোন যুবতী মনে বসন্তের রঙয়ের দোল লেগেছে, উড়িয়ে দিয়েছে ওড়না ।
আমারও মনে লেগেছে রঙ কিন্তু যুবতীর সঙ্গ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়-কোথায় পাবো তাহারে?

যুবতী বাসন্তীর মনে লেগেছে দোল-বসন্তের রঙয়ের ছোঁয়া-আবিরে আর বিভিন্ন রঙ মেখে হয়ে উঠেছে অপরূপা রঙয়ের সুন্দরী-রঙিন এক পৃথিবীর মানুষ। বাসন্তী ওড়নার স্পর্শ পাওয়ার জন্য-উপরে ওড়নার দিকে মুখ করে, দৌড়াতে থাকে।

মাটির মনে ভাবনা হয় মিলন ঘটালে কেমন হয়!
বাসন্তীর আনন্দের জোয়ারে চলতে চলতে অসাবধানতার কারণে অসমতল জায়গায় গর্তে পা পড়ার কারণে ছিটকে গিয়ে ধাক্কা লাগে-দাঁড়িয়ে থাকা, চোখ মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা -বসন্ত নামক এক যুবকের সঙ্গে।

হঠাৎ করে ধাক্কা লাগার জন্য-বসন্তের স্বপ্নের রাজ্যের রাজকন্যার স্বপ্ন দেখা-স্বপ্ন গুলো হারিয়ে যায় এবং দুই জনেরই পড়ে যায় প্রকৃতির ধরাতলে।

বসন্ত নামক যুবকের বুকের উপরে বাসন্তী, উভয়ের বুকে-বুকে একত্রে ঘটেছে মিলন।
   
বসন্ত কোন কিছু চিন্তা না করেই-আবেগের বশবর্তী হয়ে, বাসন্তী কে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে যুগল আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাসন্তীর পুরুষের স্পর্শ পেয়ে শরীরের মধ্যে প্রকৃতির নিয়মে, শরীরের মধ্যে শিহরণ জাগরিত হয় আর সঙ্গে সঙ্গে বসন্ত কে জড়িয়ে ধরে চোঁখে চোঁখ রেখে, চোখের ভাষায় কথা বলতে থাকে।
                          সমাপ্ত

======================================================================

                                         
                    *রাতের আতঙ্ক


স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বছরের 365 দিন এককি বিষয় ঝগড়া অশান্তি লেগেই থাকে।

সংসারের কর্তা অরবিন্দু মশাই শীতের রাতে খাওয়া দাওয়া করে-সারাদিনের পরিশ্রমের ক্লান্তি দূর করার জন্য_বিছানায় শোওয়ার বন্দোবস্ত করতে গিয়ে দেখে-প্রতিদিনের মতো আজও ঘরের জানালা খোলা আছে,বন্ধ করে শুয়ে পড়ে।

বাড়ীর কর্ত্তী মহাশয়া আলো দেবী খাওয়া দাওয়া করে-রান্না ঘরের কাজ মিটিয়ে শোওয়ার ঘর ঢুকে চিৎকার করতে করতে, জোরে জোরে টান দিয়ে জানালার কাঠের খিল (অর্থাৎ কপাট) খুলে দেয়।

এক ঝটকায় শীতল হাওয়া ঘরের মধ্যে ঢুকে যায়।

আলো দেবীর চিৎকার চেঁচামেচিতে অরবিন্দু বিরক্ত হয়ে বলে :- তোমার জ্বালা-যন্ত্রণায় একটু ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা, পৌষ মাসের শীতের রাতেও জানালা খুলে রাখতে হবে নাকি ?
ঘর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে, আমার শীত করছে বলে জানালা বন্ধ করতে যায়।

বৌ আলো দেবী ছুটে গিয়ে জানালা ধরে বলে :- এই একটি জানালা খোলা থাকবে-প্রকৃতির হাওয়া না পেলে, আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
যদি ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারো-তাহলে আরও তো ঘর আছে, সেই ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো কিন্তু জানালা বন্ধ করা যাবে না।

স্বামী অরবিন্দু বলে :- সারা বছর রাতে শোয়ার সময় তোমার সাথে জানলা খোলা-বন্ধ নিয়ে অশান্তি, আমার আর ভালো লাগে না।

বৌ আলো দেবী বলে :- অশান্তি যতই করো না কেন? 
কিন্তু জানলা বন্ধ হবে না।

আমি নাকি মানসিক রোগী-পাগল তা অনেক তো দেখালে ডাক্তার, তোমার ডাক্তাররা জানলা বন্ধ করতে পারল না।

স্বামী অরবিন্দু বলে :- পাগলামি না করে শিশু সন্তানের প্রতি দয়া করে- জানলা বন্ধ রাখো, সারা বছরই ছেলের ও আমার ঠান্ডা লাগা যায় না। 

বৌ আলো দেবী বলে :- ছেলের চিন্তা তোমার করতে হবেনা-ওর যাতে হাওয়া না লাগে তার ব্যবস্থা করে রাখি।
তোমার চিন্তা তুমি করো! কি করবে?

স্বামী অরবিন্দু অনেক রকম চেষ্টা করার পর বিফল মনোরথ হয়ে ভাবে :- আর কি করবে ?
অগত্য মধুসূদন লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি কিন্তু লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

এক প্রতিবেশীর পরামর্শে ছেলের ঠান্ডা লাগার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ওষুধ আনতে যায়-এক হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের দোকানে।

অরবিন্দু ঔষধ নেওয়ার পর ডাক্তার বাবুর নিকটে স্ত্রীর সম্পর্কে সবকিছু বিস্তারিত জানায়।

ডাক্তারবাবু বলেন :- ঠিক আছে, আমি চিন্তাভাবনা করে দেখছি! কি ঔষধ দেওয়া যায় ?
আগামীকাল দুপুর বেলা আপনার বাড়িতে যাবো এবং আপনার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ পরিচয় করতে কিন্তু আমি ডাক্তার সে কথা কখনো বলবো না।

পরের দিন ডাক্তারবাবু নরেন বিশ্বাস, অরবিন্দু বাবুর বাড়িতে গিয়ে খোলা জানালা দেখে ও বাড়িটির চারিপাশে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলায় এবং উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর মন-মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেন।
ডাক্তারবাবু, অরবিন্দ বাবুকে বলেন :- আরো কিছুদিন আপনার কষ্ট ভোগ করতে থাকুন-একদিন হয়তো সত্যি সত্যি এই আতঙ্ক দূর হয়ে যাবে।

কিছুদিনের মধ্যেই ডাক্তারবাবু পরিকল্পনা তৈরি করে-সবার অজান্তে এক অমাবস্যার রাতে কালো পোশাক পড়ে_গভীর রাতে এসে উপস্থিত হয়,অরবিন্দ বাবুর বাড়ীর পিছনের বন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে-একদম জানালার ধারে ।
ডাক্তারবাবু একটি সিগারেট ধরিয়ে ধূমপান করতে করতে দেখতে পায় :- দক্ষিণের জানালার দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে আলো দেবী।

ডাক্তারবাবু প্রথমে কিছু রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রণে ধোঁয়া সৃষ্টি করেন ও জানালার ভিতর দিয়ে কালো কালো দুই হাত চালিয়ে দেন এবং আলো দেবীর লম্বা লম্বা চুলগুলো খুব সাবধানের সহিত জানলার বাইরে নিয়ে আসে।
তারপর চুল হাতে ভালো করে পেঁচিয়ে নিয়ে জোরে জোরে জানালার দিকে টানতে শুরু করেন এবং আলো দেবীর মাথা জানালার কাঠের ছিকে বেঁধে যায়।

আলো দেবী হাউমাউ করে চিৎকার করে উঠে বলে :- ভুতে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
 
ডাক্তারবাবু আলো দেবীর চুল ছেড়ে দিতেই ধড়ফড় করে উঠে, আগেই জানালা বন্ধ করে দেয়।

বাইরে থেকে ডাক্তারবাবু ভুতের মতো করে নাকা সুরে কথা বলতে থাকে। 

আলো দেবী ভুত ভুত চিৎকার সঙ্গে বাঁচাও বাঁচাও বলে,স্বামীর শরীরের উপর পড়ে যায়।

   হঠাৎ শরীরের উপর ভারী কোন বস্তু পড়ায়,অরবিন্দু বাবু আতঙ্কিত হয়ে ঘুমঘুম অবস্থায় উঠতে যায় আর আলো দেবী,স্বামীর দেহ থেকে নিচেই মেঝেতে পড়ে যায়।

সেই রাতের ভয়ানক ভূতের ভয় পেয়ে আলো দেবী চিরকালের জন্য জানালা বন্ধ করে দেয় ,এমনকি দিনের বেলায়ও দক্ষিণের ঐ জানলাটি খোলে না।


অরবিন্দু বাবু কয়েক সপ্তাহ পরে ছেলের জন্য ঔষধ নিতে গিয়ে বলে :- ডাক্তার বাবু আপনি তো কোনো ব্যবস্থাই করলেন না ?
ভৌতিক কান্ডে অটোমেটিক জানালা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এখন রাতে থুথু ফেলার জন্য জানলা খোলা যায় না।

ডাক্তারবাবু সাফল্যের লাভের জন্য, উচ্চ স্বরে হাসতে শুরু করেন। 

আরো অন্যান্য রোগীগণ বলেন :- ডাক্তারবাবু হাসছেন কেন?
নিশ্চয়ই কোন রহস্য আছে, বলুন না।

ডাক্তার বাবু বলেন :- অরবিন্দ বাবুর বাড়িতে গত আমাবস্যায় রাতে যে ভৌতিক কান্ড ঘটেছিল- আমি ঘটিয়েছিলাম নিজে ভূত সেজে।

অরবিন্দু বাবুর উদ্দেশ্য বলে :- আরে মশাই তারকাঁটার বেড়া দেওয়ার আর সময় পাননি- তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে তারকাঁটায় কেঁটে হয়েছে ক্ষতবিক্ষত ভুতের দেহ।
 
বিস্তারিত ঘটনা বলার পরে ডাক্তারবাবু বলেন :- সব সময় ঔষধের দ্বারা-সব রোগের কাজ হয়না, ডাক্তারির সাথে ফাঁকতালি (অর্থাৎ বুদ্ধির কৌশল) জানতে হয়।


ডাক্তারের দোকানে উপস্থিত সকল ব্যক্তিরা হো হো হো করে হেসে ওঠে।

ডাক্তারবাবু বলেন :- আলো দেবীর হাতে একদিন রান্না খেতে যাবো আর এই ভৌতিক কান্ডের অভিযানের গল্পটি বলবো।

অরবিন্দ বাবু বলে :- তা হলে মিষ্টি মুখ হয়ে যাক।


                                 সমাপ্ত
 ছাপা হয়ে প্রকাশিত হয়েছে :- শব্দযাপন পত্রিকা প্রথম বর্ষ নববর্ষ সংখ্যা 1428, কচিপাতা প্রকাশনা পানাগড়,পশ্চিম বর্ধমান।


========================================================
                                        *বন্দিদশায়*
     
======================================================================
গভীর রাতে দশ বছরের এক বালক মাঠ ঘাট পেরিয়ে পড়িমড়ি করে জোর কদমে দৌড়িয়ে চলেছে।
উঁচু নিচু ও সমতল-অসমতল জায়গা পার হতে গিয়ে, বার বার আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় থেকে রক্ত ঝরছে তবুও আবার উঠে দৌড়াতে শুরু করে।

দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময়ে প্রধান সড়কে এসে পড়ে।
এই সড়ক দিয়ে দিন-রাতে 24 ঘন্টায় হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে কিন্তু বালকের গাড়ির গতি দিকে কোন নজর নেই।

এক সময়ে রাতের টহলদারি পুলিশের নজরে আসে এবং কয়েক জন পুলিশ বালকের পথ অবরোধ ধরে গাড়ীতে নিয়ে আসে।

বালকটি কান্না করতে করতে বলে :- আমাকে মারবেন না-যা বলবেন তাই করে দেবো, আমি আর বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করবো না।

জম্বু পুলিশের কেউ বালকের ভাষা বুঝতে পারে না কিন্তু ভাষা শুনে ধারণা করে বাঙালি হবে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, না আসাম, না ত্রিপুরা রাজ্যের বোঝা যাচ্ছে না।

জম্বু রাজ্যের কাঁটরা এলাকার কোন এক থানায় নিয়ে আসা হয় বালকটিকে এবং একজন দোভাষী কে সন্ধান করা হয়।

দোভাষী বাংলা ভাষায় বালকটিকে বোঝানোর চেষ্টা করে এবং আদর করে সান্তনা দিতে থাকে বিশ্বাস অর্জন করার জন্য।

একসময় বালকটি কান্না থামিয়ে দোভাষীর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে।

দোভাষী আদর করতে করতে বলে :- তোমার বাড়ির ঠিকানা বলে বাবা।
বালকটি তার বাবার নাম সহ বাড়ির ঠিকানা বলতে শুরু করে।
দোভাষী বলে :- তুমি কলকাতা থেকে জম্বু রাজ্যে চলে এলে কি ভাবে?
বালকটি বলে :- প্রায় ছয় মাস আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিলাম দিল্লিতে হঠাৎ করে নোট বন্দি শুরু হয়ে যায়।
বাবা কয়েকদিনের চেষ্টায় নতুন কিছু টাকা সংগ্রহ করে এবং আমরা দিল্লি স্টেশনে কয়েকদিন অবস্থান করার পর হঠাৎ একদিন টিকিট পেয়ে যাই কলকাতা যাওয়ার।
সবাই তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে উঠতে গিয়ে, প্রচন্ড ভীড়ের চাপের মধ্যে বাবার হাত থেকে আমার হাত বিছিন্ন হয়ে যায়।
আমি বিপরীত দিকের গাড়িতে উঠে পড়ি এবং ভাবনা করি বাবা-মা এই বগিতেই আছে।
আমি ট্রেনের মধ্যে বাবা মাকে অনেক বগীর মধ্যে খুঁজেছি কিন্তু দেখা পাইনি, ভেবেছিলাম কলকাতা গিয়ে নিশ্চয় বাবার সাথে দেখা হবে।
একদিন ট্রেন এসে দাঁড়িয়ে পড়ে, ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মের বাইরে এসে চারিদিকে তাকিয়ে দেখি বাংলায় কোন কিছুই লিখা নেই- তখন ভাবি মনে তাহলে আমি হারিয়ে গিয়েছি এবং মনে ভয়ে আতঙ্কে কান্না শুরু করে দেয়।
অনেকে ভিখারি মনে করে পয়সা দিয়ে চলে যায়।

সন্ধ্যা হয়ে আসছে খিদের জ্বালায় জড়োসড়ো হয়ে কুকুরের মত সিঁড়ির উপরে শুয়ে পড়ি।

একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে আকার-ইঙ্গিতে বলে বাবার কাছে পৌছিয়ে দেবে- আমি বিশ্বাস করে সেই ব্যক্তির সঙ্গে অনেক দূরের এক গ্রামের বাড়িতে যায়।
প্রথম কয়েক দিন আমাকে আদর যত্ন ভালই করতে থাকে তারপর আমাকে দিয়ে কুয়ো থেকে জল নিয়ে আসতে হতো এবং মাঠে নিয়ে গিয়ে কাজ করো তো, না পারলে লাঠি দিয়ে পেটাতে।

ছয় মাস জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করেছিলাম বাবা মায়ের কাছে ফেরত পাঠাবে বলে কিন্তু কয়েকদিন আগে আমাকে প্রচন্ড ভাবে মেরেছিল।
সেই জন্য আমি পালিয়েছি বাড়ি যাওয়ার জন্য।

দোভাষী বলে :- এখানে কেউ তোমাকে মারবে না-এই যে দেখছো, সব পুলিশ তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি কিন্তু কয়েকদিন সময় লাগবে।

সরকারি নিয়ম অনুসারে বালকটিকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কয়েক এক সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশের তৎপরতায় এবং বালকটির বসবাস কারী লোকাল থানার সহযোগিতায়-বালকটি তাহার পিতা মাতার নিকটে পৌঁছে দেন, জম্বু রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও চাইল্ড লাইনের কর্মীরা।
বালকটির সাহসিকতার জন্য জম্বু রাজ্যের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হয় ও বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী সহ , নতুন নতুন জামা কাপড় দান করেন।
                          সমাপ্ত
======================================================================

====================================
                      পরশ্রীকাতরতা
====================================
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপারেতেই সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
পুরুষের মনে নিজের বৌয়ের থেকে অন্যের বউকে দেখতে সুন্দর লাগে।

পল্লী বাংলার  যুবক অখিল ঘোষ দুধের ব্যবসা করে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বাড়িতে বাড়িতে গরুর দুধ দোয়ানোর কাজ এবং সময় মতো আবার বিক্রি করা।

অখিল পল্লী গাঁয়ের এক সুন্দরী যুবতী শিখা বৌদি কে, নিয়মিত এক লিটার করে দুধ দেয় এবং দুধ দিতে দিতে অনেক টাকা বাকি পড়ে যায়।

অখিল, বৌদির বাড়ীর উঠানে এসে চিৎকার করে বলে :- বৌদি দুধ নিয়ে 
যান ।

শিখা বৌদি দ্রুত দুধ নেওয়ার বালতি নিয়ে-অখিল ঘোষের সামনে এসে, হাসতে হাসতে বলে :- ঘোষ, আজ এক লিটার বেশি দেবে কারণ বাড়ীতে বাপের বাড়ির লোকজন আসবে।

অখিল দুধ মেপে দিতে দিতে বলে :- বৌদি তোমার রূপ যৌবনের মাধুর্য দাদা বুঝতে পারল না ,বিদেশে পড়ে থাকে।

শিখা বৌদি হাসতে হাসতে বলে :- পরের বৌকে সুধু দেখে যাবে কিন্তু নিজের বৌয়ের মতো করে কোন দিন কাছে পাবে না আর মনে মনে ভেবে শরীর খারাপ করবে।

অখিল বলে :- বৌদি দুধের দাম কিন্তু অনেক টাকা বাকি হয়ে গিয়েছে-সুধু দেবো, দেবো করে এক বছর ঘুরাচ্ছো তা দেবেন কবে ? 

শিখা বৌদি, দুষ্টুমি করার মাধ্যমে হাসি হাসি মুখে বলে :- বর্তমানে তো মাসে মাসে পেয়ে যাচ্ছে-কোন কারণবশতঃ হয়তো হাজার দুয়েক টাকা পাবে।
কিন্তু  চিন্তা করেছো কেন ?
এমন ভাব করছো, যেনো টাকা না দিয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে চলে যাবে_ ঠিক আছে, এবার
তোমার দাদা একাউন্টে টাকা পাঠালেই- তোমাকে টাকা দিয়ে দেবো।

শিখা বৌদি দুধ ঘরে রেখে এসে বলে :- রৌদ্রের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছো-কিছু সময় বসো, চা জল পান করে যাবে। 
অখিল ঘোষ বলে :- না, থাক! যেতে হবে বহুদুরে ঐ উত্তর পাড়ায় ।
শিখা বৌদি ঘোষের হাত চেপে ধরে আদর করে বলে :- তোমার ঘরের বৌ-আমার মতো আদর করে , এই কাঠফাটা রোদ্দুরে লেবু জলের শরবত ও চা বিস্কুট খেতে দেবে না।
 সাইকেল রাখে চলে ঘরে-আমার হাতের চা পান করলে, তোমার শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

এই ভাবে উভয়ের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি হতে হতে- দুধের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে 5,414 টাকা বাকি হয়ে যায়।

অখিল ঘোষ ভাবে মনে মনে :- বৌদির রূপ যৌবন ও সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
মিলনের ইচ্ছা জাগে মনে কিন্তু সম্ভব হবে কি করে ?

একদিন দুপুরে ঘোষ দুধ মেপে দিতে গিয়ে, অন্যমনস্ক হয়ে দুধ দেয় ফেলে ।

শিখা বৌদি বলে :- ঘোষ, তোমার হয়েছে কি ?
আমার অঙ্গের দিকে তাকিয়ে দুধ ফেলে দিলে-
আমার বুকের জ্বালা পোড়া বুঝতে পারে না! কেন বুকে ব্যবহার করি না ব্লাউজ?

অপেক্ষা করে জল নিয়ে আসছি-পড়ে যাওয়া দুধে জল দিতে হবে, না হলে নাকি সংসারের অমঙ্গল হয়।
অখিল ঘোষ বলে :- থাক, উত্তপ্ত করে আর জল ঢালতে হবে না।

শিখা বৌদি ভাবে মনে :- স্বামী থাকে না ঘরে-দেহের সুখ পাওয়ার, একমাত্র রাস্তা ঐ যুবক ঘোষ ।
পরকীয়া ভাবে যদি স্বামী সুখ লাভ করা যায় , ঐ ঘোষের কত না সুন্দর চেহারা দেহ গঠন,উচুলম্বা কম নয়।
  হয়তো কিছু সময়ের জন্য-স্বামী কে ভুলিয়ে দিতে পারবে, বুকে বুক রেখে ভরিয়ে দেবে ক্ষুধার্ত যৌবনের আগুন নিভিয়ে।
ঘোষ যে ভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে, মনে হচ্ছে-
 আমার প্রতি হইয়াছে আসক্ত, প্রস্তাব দিলে হয়তো কাজ হতে পারে-দুধের টাকাও আর শোধ করতে হবে না।

বৌদির বাড়িতে ঘোষ, প্রতিদিনের অভ্যাসের মতো আসে দুধ দিতে ।

ঘোষ দুধ দেওয়া শেষ করে বলে :- বৌদি, দুধের দাম হয়েছে বাকি অনেক টাকা -দেবো দেবো করে দিচ্ছে না। 

শিখা বৌদি, ঘোষের অঙ্গে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে :- টাকা, আমি দিতে পারবে না কিন্তু টাকা পরিশোধের রাস্তা আছে। 

তোমার অঙ্গে অঙ্গে স্পর্শ করে-বুকে মাথা রেখে মিলনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে চাই ,যদি রাজি থাকো তবে এসে রাতে পিছনের দরজা দিয়ে।

অখিল আনন্দিত মনে বলে:- তাহলে গাঁয়ে, গাঁয়ে টাকা শোধ।

শিখা বৌদি বলে :- তাই হোক, এসে রাতে - তোমার জন্য, থাকবে জেগে।

অখিল ঘোষ ভাবে মনে :- আমার বৌ কালো, রোগা পটকা, বৌদির দেহ কত না সুন্দর, মিলনে দেবে হয়তো নতুন নতুন সুখের সন্ধান ।

অখিল ঘোষ রাতের অন্ধকারে মনের আনন্দে আসে, মিলনের আকাঙ্ক্ষায় শিখা বৌদির ঘরে।

অখিল মিলনের শেষে বলে :- হে ঈশ্বর, এ আমি কি ভুল করলাম-কালা-ধোলা (অর্থাৎ কালো ও সুন্দরী নারীর পার্থক্য নির্ণয়) সব এক, আমার কেবল দুধের দাম কয়েক হাজার টাকা করলাম নষ্ট, এই করোনা ভাইরাসের দুর্যোগপূর্ণ লকডাউনের বাজারে।

মন নামক বিবেক বলে :- অন্যর ধন-সম্পত্তি, ঐশ্বর্য সুন্দর রুপ যৌবন দেখে, নিজের মনুষ্যত্ব কে বিসর্জন দেওয়া ঠিক নয়।
====================================
                        * সমাপ্ত*

====================================
         * ধর্ষকের প্রতিশোধ* 

============================
প্রচন্ড গরমের এক রাতের আটটার সময়ে, ঘরের মধ্যে একবার পুরুষ কন্ঠের আর্তনাদের চিৎকার করার পর বিছানা ও ঘরের মেঝেতে রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। একজন পুরুষ ভয়ে আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করে-দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ীর সদর দরজার লোহার গেটের সামনে এসে পড়ে। দুই হাত দিয়ে গেট ধরে জোরে জোরে ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করে এবং পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে চিৎকার করে বলে :- বন্ধু, নরেশ দরজা খুলে দে, তোর বৌ মেরে ফেলবে। তোকে মদ পান করানোর পর-দশ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছিলাম কিন্তু বিনিময়ে তোর বউ কে ধর্ষণ করবে। বন্ধু, গেট খুলে দে-আমাকে বাঁচাতে দে, আরো অনেক টাকা দেবো।
লীলাবতী মা কালির মতো বিবস্ত্র হয়ে, হাতে খড়গ না পেয়ে-সব্জি কাঁটার বোটি হাতে নিয়ে উর্দ্ধেশ্বরে দৌড়াতে দৌড়াতে গেটের সামনে এসে, গাঁয়ের জোরে ঝারা কোপ মারে-সেই মুহূর্তে গেট খুলে যায় এবং আরেক বার কোন পুরুষ কন্ঠে আর্তনাদ চিৎকার করে উঠে।
লীলাবতী নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে-তার স্বামীর দেহ থেকে মাথা আলাদা হয়ে পড়েছে। খন্ড দেহ লাফাতে শুরু করে। 

লীলাবতী মনের আনন্দে উলঙ্গ শরীরে-খন্ড দেহের উপর বসে, উন্মাদ পাগলের মতো দুই হাত দিয়ে স্বামীর রক্ত মাখতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে অন্যটি পুরুষ পালানোর চেষ্টা করে।
লীলাবতী বোটি ছুড়ে মারে আর উক্ত পুরুষ টি পড়ে যায়।

লীলাবতী মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে রক্তের হোলি খেলা করে- এক হাতে স্বামীর কাঁটা মুন্ডু ও অন্য হাতে বলি দেওয়ার খড়গ নামক বোটি নিয়ে নাচতে নাচতে চলতে শুরু করে।
রাস্তার দুই পাশে নারী-পুরুষ,আবাল-বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে পড়ে।
 ভয়ে আতঙ্কে কোন নারীরা লীলাবতীর পথ অবরোধ করে না এবং গতি থামানোর কোন চেষ্টা করে না।
কিন্তু নানা জন নানা ধরনের বাজে বাজে মন্তব্য করতে ছেড়ে দেয়নি।
বেশ্যা,কুলটা, বাজে মেয়ে ও ঘরে স্বামী থাকতে অন্য পুরুষদের ঘরে নিয়ে আসে। 
স্বামী হয়তো, দেখে ফেলেছিল পরকীয়া প্রেমের লীলা-সেই কারণেই খুন করে চিরেদিনের মতো নিস্তব্ধ করে দিলে।
আরো কত কিছু , মানুষ জন কথাবার্তা বলতে বলতে লীলাবতীর বাবা-মা কে গালিগালাজ দিতে শুরু করে।
বিশেষ করে মহিলারা এই বিষয়ে বিশাল পারদর্শী।

লীলাবতী রাস্তার হাজার হাজার মানুষের মধ্যে দিয়ে নাচতে নাচতে সোজা থানার মধ্যে ঢুকে যায়। 
থানার নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশ এই দৃশ্য দেখে-ভয় পেয়ে ছুটতে ছুটতে থানার ভিতর ঢুকে পড়ে।

লীলাবতী থানার অফিস ঘরে ঢুকে বড় লম্বা টেবিলের উপর কাঁটা মুন্ডু ও বোটি রেখে দেয়।
রক্তে টেবিল ভেসে গিয়ে নীচের দিকে গড়াতে থাকে।
লীলাবতী কান্না করতে করতে দুই হাত উপরের দিকে তুলে , পিছন ঘুরে জোরে আঘাত করে বিপরীত দিকের পাশের দোয়ালে। 
 হাতের শাঁখা পলা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে বলে :- আমাকে গ্রেপ্তার করুন-আমি স্বামী কে খুন করে, তার রক্তে হোলি উৎসব ও কাঁটা মুন্ডু দিয়ে ফুটবল খেলা করেছি।

হঠাৎ করে ভয়ানক এমন পরিস্থিতির জন্য, থানার কোন পুলিশ প্রস্তুত ছিলেন না।
 সবাই আতঙ্কিত হয়ে ভয়ে ভয়ে একদম চুপচাপ হয়ে যায়।
 পুলিশরা কর্তব্য বিমুখ হয়ে ভাবতে থাকে, একে-অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে।

 থানার ভারপ্রাপ্ত বয়স্ক অফিসার দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছুটেতে ছুটতে লীলাবতীর কাছে আসে এবং দুরত্ব বজায় রেখে হাতজোড় করে বলে :- মা, শান্ত হও; তোমার সব কথা শুনবে ও অপরাধীর অবশ্যই সাজা পাবে।

লীলাবতী দুই হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে, টেবিলের এক কোনায় গিয়ে মেঝেতেই বসে পড়ে ।

ভারপ্রাপ্ত অফিসার, মহিলা পুলিশদের বলেন :- তাড়াতাড়ি ঐ মেয়ে টি কে ভিতরে নিয়ে গিয়ে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্নান করান ও উত্তেজিত ভাবে কথাবার্তা বলবেন না এবং কাপড় পরিয়ে-আমার কাছে নিয়ে আসুন।

সেই মুহূর্তে পাড়ার কয়েক জন পুরুষরা তাড়াহুড়ো করে থানার মধ্যে এসে বলে :- স্যার, দুই টো খুন হয়েছে আর একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো বেঁচে যাবে। শয়তান টাকে এখনি গ্রেফতার করুন।

অফিসারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী ছুটে চলে-নীলাবতীর বাড়ির উদ্দেশ্যে, সঙ্গে প্রতিবেশী লোকজন।

কয়েক ঘণ্টা পরে পুলিশ কর্মকর্তা লীলাবতী কে পাশে বসিয়ে বলে :- বলে মা, কেন খুন করলে স্বামী কে ?
লীলাবতী বলে :- দুই বছর আগে-উভয় পক্ষের অভিভাবকেরা দেখাশোনা করার মাধ্যমে, আমাদের বিয়ে হয়েছিল।
বিয়ের পর জানতে পারি,স্বামীর মদ আর জুয়া খেলা ছাড়া দ্বিতীয় কোন কাজ নেই।
স্বামীর ভাল করার অনেক চেষ্টা করেছি।
 একে একে আমার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া সোনা গয়না ও টাকা-পয়সা ও বাসন-কোসন সবকিছুই মদের ও জুয়ার পিছনে চলে গিয়েছে, তবুও সংসারের হাল ছাড়িনি।
একসময় সংসারে অনটন শুরু হয়- নিম্নতম চাহিদা দুটি লবণ ভাত জোটে না।

লজ্জা ঘৃনা ত্যাগ করে বাবার কাছে থেকে টাকা নিয়ে এসে, সেলাই মেশিনের কাজ শুরু করি।
মাঝেমধ্যেই স্বামীর মদের টাকার চাহিদা মেটাতে হতো।

একটা মেশিন থেকে আয় রোজগার করতে করতে আরও তিনটি মেশিন কিনে লোকের মাধ্যমে কিছু বাড়তি রোজগার শুরু করি।

আমার আয়-রোজগার দেখে স্বামী হিংসা হতে শুরু করে এবং বন্ধুদের কথা মতো বাড়িতে মদের ও জুয়া খেলার আসর বসিয়ে দেয় এবং আমার প্রতি নির্যাতন-অত্যাচার শুরু করে দেয়।

এক দিন রাতে জুয়া খেলায় হারতে হারতে কয়েক হাজার টাকা হেরে যায় এবং আমাকে বাজী রাখে।
কিন্তু বন্ধুদের চক্রান্ত এবার গোহারা হেরে যায়।

বন্ধুদের শর্ত অনুসারে-স্বামীর সামনেই, স্বামীর দুই বন্ধু-আমাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে কিন্তু তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে রাখি।

আজকের রাতে আমি মেশিনে কাজ শেষ করার পর- কিছু খাওয়া দাওয়ার করার উদ্দেশ্যে শোওয়ার ঘরে যায়।
ঘরে যেতেই স্বামীর দুই বন্ধু মিলে জোর করে বিছানায় নিয়ে যায় এবং বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমি ধর্ষকের কাছে-ধর্ষণের শিকার হয়ে পড়ি।
উপায় অন্ত না পেয়ে-হাতের কাছে চাকু পেয়ে যায়।
আগে পিছে কোন চিন্তা না-করেই চাকু চালিয়ে দেয়।
প্রথম ধর্ষণকারী চিৎকার করে ওঠে এবং নীচেই পড়ে যায়-তখন ক্রোধিত হয়ে পুরুষ অঙ্গ কেটে দেয় এবং দ্বিতীয় বন্ধু কে ধরার জন্য, তাড়া করে গেটের সামনে এসে জানতে পারি-আমার স্বামী, মদের নেশায় দশ হাজার টাকার বিনিময়ে- আমাকে ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য, নিজে গেটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অপেক্ষা করছো।

আমি স্বামীর দুই নম্বর বন্ধু কে খুন করার জন্য,বোটি দিয়ে গাঁয়ের সর্ব শক্তি দিয়ে জোরে কোপ বসিয়ে দেয়।
আর সেই মুহূর্তে স্বামী গেট খুলে মাথা ভিতরে দিয়ে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করে।
স্বামীর দু'নম্বর বন্ধু বসে পড়ে আর স্বামীর গলায় গিয়ে কোপ লেগে ধর থেকে মাথা আলাদা হয়ে পড়ে।

থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের সবকিছু শোনার পর লীলাবতী কে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করে এবং লীলাবতীর স্বামীর দুই নম্বর বন্ধু কে গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা এখন কোর্টে বিচারাধীন।
============================
                  *গল্প শেষ *


============================
     গৃহ বধুর অন্তর জ্বালা
========================

 রাত্রে বিছানায় একা শুয়ে শুয়ে ভাবে মনে সুস্মিতা :- এমন বিয়ে না করায় ছিল অনেক ভাল।
 বিয়ে করে অন্তর যন্ত্রণা ভোগান্তি ভোগ করার থেকে বিয়ের আগে ছিলাম ভীষণ ভাবে ভালো।
তখন পুরুষের দেহের রক্তের স্বাদ আস্বাদন করিনি আশায় ছিলাম স্বামী হবে।

একদিন শুভ দিনক্ষণ দেখে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাবা মায়ের শেষ সম্বল বিক্রি করে, অনেক অর্থ খরচ করে বাবা-মা আমাকে দিলেন পুরুষ নামক স্বামীর হাতে তুলে যৌবনের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য।

 ধুমধাম করে খাওয়া-দাওয়া হলো আত্মীয়-স্বজন আমন্ত্রিত করে।

আমাকে নব বধু রূপে সাজিয়ে দিল মাসি পিসি, শ্বশুরবাড়িতে পা রাখলাম শাশুড়ি এসে বলে আমার ঘরে লক্ষ্মী মা এসেছে।
বৌভাতের দিনে শ্বশুরবাড়িতে আলোয় আলোকিত করা হয়েছিল।
 নিমন্ত্রিত অতিথিগণ চলে যাওয়ার পরে বৌভাতের আয়োজন সমাপ্ত করে গভীর রাতে শ্বশুর শাশুড়ির একমাত্র ছেলে মদন মোহনের সঙ্গ লাভ করার সৌভাগ্য আসিল।

মাত্র ছয় মাস স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হয়েছে এরমধ্যে দুমাস চলে গিয়েছে ঘুরতে ঘুরতে।

মদন বলে :- সুস্মিতা আমাকে যেতে হবে কাজের জন্য ভারত ছেড়ে বিদেশে।
 পুরনো কাজ অনেক টাকা বেতন ছাড়তে পারবো না, মাসে 70 হাজার টাকা বেতন তিন বছর তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে ফিরে এসে আর যাব না।
সুস্মিতা বলে :- বিদেশি যখন যাওয়ার খুব ইচ্ছা, তাহলে বিয়ে করে একটি নারীর জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনলে কেন ?
বিদেশ থেকে টাকা কামিয়ে নিয়ে এসে তিন বছর পর বিয়ে করতে পারতে।
মদন বলে :- বিয়ের আগে যেমন ছিলে তেমনই ভাবে থাকবে।
সুস্মিতা বলে :- রক্তের স্বাদ একবার যে পাই, সে তখন রক্ত পান করার জন্য চেষ্টা করতে থাকে।
 আমার বাবা-মা একটি মেয়েকে খেতে-পরতে দিতে পারতেন না ?
বাবা-মা মেয়ের যৌবনের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারেন না বলেই তোমার মতো পুরুষ স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছেন।
 আমার যৌবনকে রক্ষা করার জন্য ।
আর তুমি কয়েকদিন আমার সঙ্গে সঙ্গ করে, আমার জীবন যৌবনের আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছ বিদেশে টাকার আয় করতে।
আমার যৌবনের আগুনে জল ঢালবে কে ?

তোমার শরীরে যৌবনের আগুন লাগলে পতিতালয়ে গিয়ে টাকার বিনিময় আগুনের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারো কিন্তু আমি যদি আমার শরীরের আগুনের তাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে পড়ি। তখন বলবে কুলাটা অর্থাৎ যে বংশ কুলের সম্মান নষ্ট করে, চরিত্রহীনা অর্থাৎ যে নিজের চরিত্রকে বিভিন্ন পুরুষের দ্বারা ভোগ্যবস্তু বানিয়ে তোলে, অসতী অর্থাৎ স্বামী ব্যতীত অন্য পুরুষের সঙ্গ ও দুশ্চরিত্রা আরো কত কিছু খিস্তি খামারি।

পুরুষেরা 10 জন নারীর সঙ্গে অবৈধ মিলন করলে দোষের নয় কিন্তু নারীরা যদি একজন পুরুষের সঙ্গে সঙ্গ করে সব ধর্মকর্ম অশুদ্ধ হয়ে যাবে।
আমার ভরা যৌবন নিয়ে তিনটি বছর ধৈর্য ধরে থাকবো কেমন করে ভেবেছো কখনো একবার ?

বিয়ে না করে তিন বছর কেন 30 বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়। বিয়ের আগে অনেক বসন্ত গিয়েছ চলে তখন কিছুই মনে হয়নি। কিন্তু বিয়ের পরে স্বামী সঙ্গ লাভ হওয়ার পরে, একমাস থাকাও নারীর জন্য কষ্টকর ।
মদন বলে :- তুমি যাই বলো না কেনো আমি বুঝতে চাই না, টাকার জন্য আমাকে যেতেই হবে।
সুস্মিতা বলে :- হয়তো তোমার অভাব পূরণ করার জন্য, অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হয়ে যায়। তখন কি করবে ?
মদন বলে :- পুরনো কে বাদ দিয়ে নতুন বউ নিয়ে চলে আসবো ঘরে।

একদিন স্বামী মদন আমার যৌবন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে আরও কয়েকগুণ যৌবনের জ্বালা বাড়িয়ে দিয়ে চলে যায় বিদেশেতে।

সুস্মিতা ভাবে :- নারীর স্বাধীনতা বলে কিছুই নেই কারণ ছোটবেলায় বাবা-মায়ের অধীনে শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে, যৌবনে পদার্পণ করার পরে স্বামীর অধীনস্থ হতে হয়, উপরন্ত শ্বশুর-শাশুড়ির, বৃদ্ধ বয়সে ছেলে বৌমাদের অধীনস্থ হতে হয়, যদি ছেলে বৌমা ভালো হয় তবেই নাহলে পথে-ঘাটে থাকতে হয়।
কিন্তু একটি ছেলে সবার শাসনের মধ্য থেকেও সকল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগ করে চলে।

একটি বছর যেতে না যেতেই চন্দন নামে একটি যুবকের সঙ্গে হয় আমার সম্পর্ক স্থাপন হয়।
চন্দনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে সঙ্গ লাভে আনন্দ অনুভব করতে থাকি।
মদনের পরিবারের চাপে পড়ে মদনের নামে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে, বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে চন্দনের হাত ধরে নতুন ভাবে সংসার শুরু করি। 
চন্দন ছোটখাটো ব্যবসা করে, আমাকে ভীষণ ভাবে সুখী রাখে।
 চন্দনের সুগন্ধিতে এখন আমি দুটি পুত্রের জননী ।
==============================
                  গল্প সমাপ্ত
ছাপা হয়ে প্রকাশিত হয়েছে :- এক মুঠো লীনতাপ , গল্প সংকলন । সম্পাদনা শান্তনু দাস।পথি.ডটকম প্রকাশনা -----
==============================

                 গদ্য কবিতা

       বাইশ শব্দের কবিতা
বিষয় :- গদ্য কবিতা
প্রকাশিত হয়েছিল :- 12 আগষ্ট 2020
প্রতিলিপি সাহিত্য জগত প্রকাশনায়।
==========================
অনির্বাণ বলে যা উচ্চারণ করা কঠিন দুরাচ্চার্যা ।
শিউলি তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু বলতে সাহস হচ্ছে না অন্তরে করছে ভয়।

যে নারী সুন্দরী রামা ।
তুমি হলে আমার অন্তরের কাছে সর্বোচ্চ সুন্দরীরামা।

যে নারী অতি উজ্জ্বল ও ফর্সা মহাশ্বেতা।
সেই সৌন্দর্যময় রূপ আছে তোমার দেহে।

তুমি হলে নারীর কটিভূষণ রশনা ও মেখলা ।
যে নারীর কোমরবেষ্ঠনিভূষণ মেখলা।
তোমার মেখলা দর্শনে হয়ে গিয়েছি মুগ্ধ।

যে নারীর দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্ন অঙ্গনা।
তোমার দেহ পল্লবীর দর্শনে হয়ে গিয়েছি আত্মহারা।

যে নারী প্রিয় বাক্য বলে প্রিয়ংবদা তোমার কথায় মধু ঝরে।

যে নারী আনন্দ দান করে বিনোদিনী। আমি তোমাকে করবো বিবাহ
 আনন্দ দান করবে তুমি সবারে।

যে নারী জীবনে একমাত্র সন্তান প্রসব করেছে কাকবন্ধা।
জানি তুমি একটি পুত্রসন্তানের জননী।

যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিল অন্যপূর্বা।
জানা আছে আগে তুমি ছিলে স্বপন দাদার স্ত্রী।

যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা হয় 
বালপুত্রিকা।
তুমি হয়েছো বিধবা তোমার সন্তানের হবে অভিভাবক।
নিজের সন্তান মনে করে করবো লালন পালন ।

যে নারীর মনে হিংসা নেই অসূয়া।
তোমাকে দিয়েছি ভালোবাসার প্রস্তাব তুমি বলোনি কোন অশ্লীল বাক্য ।
তোমার মনে নেই কোন হিংসা তাই তুমি অনুসূয়া।

যে নারীর হাসি কুটিলতা বর্জিত সুচিস্মিতা।
তোমার মুখের হাসি আমাকে করেছে পাগল।

যে নারীর হাসি সুন্দর সুস্মিতা। তোমার হাসির ছটায় জগতের পুরুষদের করেছ দিশাহারা ।

 যে বিদ্যা লাভ করেছে কৃতবিদ্যা।
সংসার জীবনে বাঁচার জন্য তুমি নিজের চেষ্টায় হয়েছে স্বনির্ভর।

 
প্রতিকার করার ইচ্ছা প্রতিচিকীর্ষা।
আমরা বিবাহ করে সমাজের প্রচলিত প্রথা দেবো ভেঙে ।

বসবাস করার ইচ্ছা বিভৎসা 
তোমাকে বিয়ে করে একসাথে করব বসবাস।

যে প্রশংসার যোগ্য প্রশংসার্য ।
তোমার রূপ মাধুর্য ব্যবহার মুখের হাসি করি আমি প্রশংসা।

যে রূপ ইচ্ছা যদৃচ্ছা।
শিউলি তুমি আমাকে বিয়ে করবে করেছ অঙ্গীকার।
রমণের ইচ্ছা রিরংসা।
দুজনের ইচ্ছায় চলো যাই সমুদ্র সৈকত দীঘা ভ্রমণে।

মিলনের ইচ্ছায় নায়ক-নায়িকার সংকেত স্থানে গমন অভিসার।
 শিউলি ধরো আমার হাত চলো যাই 
মিলনের অভিসারে।

শিউলি বলে ধরলাম তোমার হাত চলো প্রবেশ করি সংসার জীবনে।
অনির্বাণ ধরে জড়িয়ে শিউলিকে 
বক্ষে বক্ষ লাগিয়ে আলিঙ্গন বদ্ধ হয়ে।

==========================
ব্যবহারিত 22 টি এক কথায় প্রকাশের শব্দ।
দুরাচ্চার্যা , রামা, মহাশ্বেতা, রশনা, মেখলা, অঙ্গনা,প্রিয়ংবদা, বিনোদিনী, কাকবন্ধ্যা, অন্যপূর্বা, বালপুত্রিকা , অনুসূয়া,অসূয়া, সুচিস্মিতা, সুস্মিতা,কৃতবিদ্যা,প্রতিচিকীর্ষা,
বিভৎসা, প্রশংসার্য,যদৃচ্ছা,রিরংসা ও অভিসার।
==========================
            কবিতা সমাপ্ত
==========================






কবিতা মালা, ২০২৫ (কবিতা সমগ্র)

 কবিতা মালা, ২০২৫                      লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা  সূচিপত্র   (১) নতুন বছর ২৫  (২) নতুন বছরের শুভেচ্ছা (৩) কালের গহীনে (৪) ব...