কলমে :- শংকর হালদার শৈলবালা।
ভক্ত কৃষ্ণ যুবক থেকে আশ্রমবাসী।
বৃদ্ধ বয়সে কৃষ্ণ বলে হে গুরুদেব,
তোমাকে আর কি দিয়ে পূজীবো!
তোমার কথা বিশ্বাস করে বাবা-মা,
বৌ ছেলে-মেয়ে সংসার ত্যাগ করেছি।
টাকা-পয়সা যা ছিল জমানো,
ভগবানের সেবার নাম করে
একে একে সব নিয়েছে কেড়ে।
তোমার কথা অমান্য করে
বসত বাড়ি করিনি বিক্রি কিন্তু এখন
গুরুদেবের কাছে শত্রু রূপে গণ্য।
যৌবনের শক্তি হারিয়ে বৃদ্ধ বয়সের সময়ে,
বহুবার কুকুরের মতো করেছো তাড়া।
শত অপমানিত লাঞ্ছিত হয়ে তবুও
দুই মুঠো খাবারের আশায় আছি পড়ে।
যৌবনে ভগবানের উদ্দেশ্যে আপনার সেবা করতে গিয়ে অমানবিক অত্যাচারের কারণে শরীরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালের ও দাতব্য চিকিৎসালয়ের বিনামূল্যে ঔষধে হয় না নিরাময়।
আশ্রমের সেবকগণের বেড়েছে অবহেলা।
বৃদ্ধ মানুষের জল দেওয়ার সময় নেই।
মন্দিরের ভগবানের নাকি বহু শক্তি আছে।
কেন! আমাকে রোগমুক্ত করে না।
বহুবার প্রার্থনা ও মানত করেছি
কিন্তু ফল লাভ হয়নি।
গুরুদেব বহুবার বলেছেন ভক্তি বিশ্বাস নেই।
কিন্তু গুরুদেব মাসে মাসে হাজার হাজার টাকার ঔষধ সেবন করে চলেছেন।
"গুরুদেব, ভগবানের সেবার নাম করে ভক্ত
ও শিষ্যদের মগজ ধোলাই করে ধনবান ও সম্পত্তি এবং অট্টালিকার মালিক হয়েছেন।
কিন্তু গুরুদেবের মৃত্যুর পর ট্রাস্টি বোর্ডের
অসৎ গোঁসাই রূপে কয়েক জন শিষ্যরা
কোটি টাকার ধন সম্পত্তি করবে আত্মসাৎ।
কৃষ্ণ ভাবে কোন মুখে ছেলের কাছে যাবো।
তাদের সংসারের জন্য করিনি তো কিছুই।
তবুও ছেলে, মেয়ে, বৌমা ও নাতি-নাতনি
ঔষধ পত্র নিয়ে আসে দেখা করতে।
গুরুদেবের কথা রক্ষা করতে সংসার কে অবহেলা করার কারণে লজ্জিত হয়ে,
কৃষ্ণ ছেলে বৌমার সংসারে যেতে চাই না।
লোকে বলে স্বামীর শোকে কৃষ্ণ গোঁসাইয়ের
সহধর্মিণী বাসন্তী দেবী পরলোকগমন করে।
"হে গুরুদেব, মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে
আর কি দিয়ে পূজীবো তোমাকে ?
বলেছিলে ভগবানের সেবায় পুণ্য লাভ হবে। জীবন দশায় নরক যন্ত্রণা ভোগ করে চলেছি। মৃত্যুর পরে পুণ্য নিয়ে আমার কি লাভ হবে ?
গুরুদেব আপনি তো পুণ্যবান,
তবে কেন রোগ যন্ত্রণায় ভুগছেন?
-------------------
রচনাকাল :- কবিতা দিবস উপলক্ষে 20 মার্চ 2022 শ্রী শ্রী মা সেবাশ্রম ,খাটুরা , দোলন ঘাটা, মাজদিয়া, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন