মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১

*স্বামীর খুনি লীলাবতী *ক্ষুদ্র উপন্যাস

* স্বামীর খুনি লীলাবতী*
              (ক্ষুদ্র উপন্যাস )
লেখক :-শংকর হালদার শৈলবালা
দত্তপুলিয়া,নদীয়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।
-----------------------------------------------------------------
প্রচন্ড গরমের এক রাতের আটটার সময়ে, ঘরের মধ্যে একবার পুরুষ কন্ঠের আর্তনাদের চিৎকার করার পর বিছানা ও ঘরের মেঝেতে রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। একজন পুরুষ ভয়ে আতঙ্কে পালানোর চেষ্টা করে-দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ীর সদর দরজার লোহার গেটের সামনে এসে পড়ে। দুই হাত দিয়ে গেট ধরে জোরে জোরে ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করে এবং পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে চিৎকার করে বলে :- বন্ধু, নরেশ দরজা খুলে দে, তোর বৌ মেরে ফেলবে। তোকে মদ পান করানোর পর-দশ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছিলাম, বিনিময়ে তোর বউ কে ধর্ষণ করবে। বন্ধু, গেট খুলে দে-আমাকে বাঁচাতে দে, আরো অনেক টাকা দেবো।
লীলাবতী মা কালির মতো বিবস্ত্র হয়ে,  হাতে খড়গ না পেয়ে-সব্জি কাঁটার বোটি হাতে নিয়ে উর্দ্ধেশ্বরে দৌড়াতে দৌড়াতে গেটের সামনে এসে, গাঁয়ের জোরে ঝারা কোপ মারে-সেই মুহূর্তে গেট খুলে যায় এবং আরেক বার কোন পুরুষ কন্ঠে আর্তনাদ চিৎকার করে উঠে।
লীলাবতী নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে-তার স্বামীর দেহ থেকে মাথা আলাদা হয়ে পড়েছে। খন্ড দেহ লাফাতে শুরু করে। 

লীলাবতী মনের আনন্দে উলঙ্গ শরীরে-খন্ড দেহের উপর বসে, উন্মাদ পাগলের মতো দুই হাত দিয়ে স্বামীর রক্ত মাখতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে অন্যটি পুরুষ পালানোর চেষ্টা করে।
লীলাবতী বোটি ছুড়ে মারে আর উক্ত পুরুষ টি পড়ে যায়।

লীলাবতী মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে রক্তের হোলি খেলা করে- এক হাতে স্বামীর কাঁটা মুন্ডু ও অন্য হাতে বলি দেওয়ার খড়গ নামক বোটি নিয়ে নাচতে নাচতে চলতে শুরু করে।
রাস্তার দুই পাশে নারী-পুরুষ,আবাল-বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে পড়ে।
ভয়ে আতঙ্কে কোন নারীরা লীলাবতীর পথ অবরোধ করে না এবং গতি থামানোর কোন চেষ্টা করে না।
কিন্তু নানা জন নানা ধরনের বাজে বাজে মন্তব্য করতে ছেড়ে দেয়নি।
বেশ্যা,কুলটা, বাজে মেয়ে ও ঘরে স্বামী থাকতে অন্য পুরুষদের ঘরে নিয়ে আসে। 
স্বামী হয়তো, দেখে ফেলেছিল পরকীয়া প্রেমের লীলা-সেই কারণেই খুন করে চিরেদিনের মতো নিস্তব্ধ করে দিলে।
আরো কত কিছু , মহিলা গণ কথাবার্তা বলতে বলতে লীলাবতীর বাবা-মা কে গালিগালাজ দিতে শুরু করে।
বিশেষ করে পুরুষদের থেকে মহিলারা ঝগড়া, অশান্তি ও গালিগালাজ করার বিষয়ে বিশাল পারদর্শী।

লীলাবতী রাস্তার হাজার হাজার মানুষের মধ্যে দিয়ে নাচতে নাচতে সোজা থানার মধ্যে ঢুকে যায়। 
থানার নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশ এই দৃশ্য দেখে-ভয় পেয়ে ছুটতে ছুটতে থানার ভিতর ঢুকে পড়ে।

লীলাবতী থানার অফিস ঘরে ঢুকে বড় লম্বা টেবিলের উপর কাঁটা মুন্ডু ও বোটি রেখে দেয়।
রক্তে টেবিল ভেসে গিয়ে নীচের দিকে গড়াতে থাকে।
লীলাবতী কান্না করতে করতে দুই হাত উপরের দিকে তুলে , পিছন ঘুরে জোরে আঘাত করে বিপরীত দিকের পাশের দোয়ালে। 
হাতের শাঁখা পলা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে বলে :- আমাকে গ্রেপ্তার করুন-আমি স্বামী কে খুন করে, তার রক্তে হোলি উৎসব ও কাঁটা মুন্ডু দিয়ে ফুটবল খেলা করেছি।


হঠাৎ করে ভয়ানক এমন পরিস্থিতির জন্য, থানার কোন পুলিশ প্রস্তুত ছিলেন না।
সবাই আতঙ্কিত হয়ে ভয়ে ভয়ে একদম চুপচাপ হয়ে যায়।
পুলিশরা কর্তব্য বিমুখ হয়ে ভাবতে থাকে, একে-অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে।

থানার ভারপ্রাপ্ত বয়স্ক অফিসার দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছুটেতে ছুটতে লীলাবতীর কাছে আসে এবং দুরত্ব বজায় রেখে হাতজোড় করে বলে :- মা, শান্ত হও; তোমার সব কথা শুনবে ও অপরাধীর অবশ্যই সাজা পাবে।

লীলাবতী দুই হাত দিয়ে বুক চেপে ধরে, টেবিলের এক কোনায় গিয়ে মেঝেতেই বসে পড়ে ।

ভারপ্রাপ্ত অফিসার, মহিলা পুলিশদের বলেন :- তাড়াতাড়ি ঐ মেয়ে টি কে ভিতরে নিয়ে গিয়ে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্নান করান ও উত্তেজিত ভাবে কথাবার্তা বলবেন না এবং কাপড় পরিয়ে-আমার কাছে নিয়ে আসুন।

সেই মুহূর্তে পাড়ার কয়েক জন পুরুষরা তাড়াহুড়ো করে থানার মধ্যে এসে বলে :- স্যার, দুই টো খুন হয়েছে আর একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো বেঁচে যাবে। শয়তান টাকে এখনি গ্রেফতার করুন।

অফিসারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী ছুটে চলে-নীলাবতীর বাড়ির উদ্দেশ্যে, সঙ্গে প্রতিবেশী লোকজন।

কয়েক ঘণ্টা পরে পুলিশ কর্মকর্তা লীলাবতী কে পাশে বসিয়ে বলে :- বলে মা, কেন খুন করলে স্বামী কে ?
লীলাবতী বলে :- দুই বছর আগে-উভয় পক্ষের অভিভাবকেরা দেখাশোনা করার মাধ্যমে, আমাদের বিয়ে হয়েছিল।
বিয়ের পর জানতে পারি,স্বামীর মদ আর জুয়া খেলা ছাড়া দ্বিতীয় কোন কাজ নেই।

স্বামীর ভাল করার চেষ্টা করতে গিয়ে ,অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়েছে এবং সংসার বাঁচানোর জন্য ,অনেক করেছি ত্যাগ।

একে একে আমার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া সোনা গয়না ও টাকা-পয়সা ও বাসন-কোসন সবকিছুই মদের ও জুয়ার পিছনে চলে গিয়েছে, তবুও সংসারের হাল ছাড়িনি।
শ্বশুর-শাশুড়ি তার ছেলে কে ত্যাগ করে-চলে গিয়েছে অন্য জায়গায়।

একসময় সংসারে অনটন শুরু হয়-নিম্নতম চাহিদা দুটি লবণ ভাত জোটে না।

লজ্জা ঘৃনা ত্যাগ করে বাবার কাছে থেকে টাকা নিয়ে এসে, সেলাই মেশিনের কাজ শুরু করি।
মাঝেমধ্যেই স্বামীর মদের টাকার চাহিদা মেটাতে হতো।

একটা মেশিন থেকে আয় রোজগার করতে করতে আরও তিনটি মেশিন কিনে লোকের মাধ্যমে কিছু বাড়তি রোজগার শুরু করি।

আমার আয়-রোজগার দেখে স্বামী হিংসা হতে শুরু করে এবং বন্ধুদের কথা মতো বাড়িতে মদের ও জুয়া খেলার আসর বসিয়ে দেয় এবং আমার প্রতি নির্যাতন-অত্যাচার শুরু করে দেয়।

এক দিন রাতে জুয়া খেলায় হারতে হারতে কয়েক হাজার টাকা হেরে যায় এবং আমাকে বাজী রাখে।
কিন্তু বন্ধুদের চক্রান্ত এবার গোহারা হেরে যায়।

বন্ধুদের শর্ত অনুসারে-স্বামীর সামনেই, স্বামীর দুই বন্ধু-আমাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে কিন্তু তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে রাখি।

আজকের রাতে আমি মেশিনে কাজ শেষ করার পর- কিছু খাওয়া দাওয়ার করার উদ্দেশ্যে শোওয়ার ঘরে যায়।
ঘরে যেতেই স্বামীর দুই বন্ধু মিলে জোর করে বিছানায় নিয়ে যায় এবং বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমি ধর্ষকের কাছে-ধর্ষণের শিকার হয়ে পড়ি।
উপায় অন্ত না পেয়ে-হাতের কাছে চাকু পেয়ে যায়।
আগে পিছে কোন চিন্তা না-করেই চাকু চালিয়ে দেয়।
প্রথম ধর্ষণকারী চিৎকার করে ওঠে এবং নীচেই পড়ে যায়-তখন ক্রোধিত হয়ে পুরুষ অঙ্গ কেটে দেয় এবং দ্বিতীয় বন্ধু কে ধরার জন্য, তাড়া করে গেটের সামনে এসে জানতে পারি-আমার স্বামী, মদের নেশায় দশ হাজার টাকার বিনিময়ে- আমাকে ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য, নিজে গেটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অপেক্ষা করছো।

আমি স্বামীর দুই নম্বর বন্ধু কে খুন করার জন্য,বোটি দিয়ে গাঁয়ের সর্ব শক্তি দিয়ে জোরে কোপ বসিয়ে দেয়।
আর সেই মুহূর্তে স্বামী গেট খুলে মাথা ভিতরে দিয়ে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করে।
স্বামীর দু'নম্বর বন্ধু বসে পড়ে আর স্বামীর গলায় গিয়ে কোপ লাগে এবং ধর থেকে মাথা আলাদা হয়ে পড়ে।

থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারের সবকিছু শোনার পর লীলাবতী কে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করে এবং লীলাবতীর স্বামীর দুই নম্বর বন্ধু কে গ্রেপ্তার করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা এখন কোর্টে বিচারাধীন।
====================================
                           *গল্প শেষ *
====================================
 শব্দের সংখ্যা :- 976
লেখক শংংকর হালদার শৈলবালা
দত্তপুলিয়া রামকৃষ্ণ পল্লী, দত্তপুলিয়া নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড 741504
মোবাইল 91 8926200021

কোন মন্তব্য নেই:

কবিতা মালা, ২০২৫ (কবিতা সমগ্র)

 কবিতা মালা, ২০২৫                      লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা  সূচিপত্র   (১) নতুন বছর ২৫  (২) নতুন বছরের শুভেচ্ছা (৩) কালের গহীনে (৪) ব...