বিষয় :- প্রবন্ধ
শব্দের সংখ্যা :- 511
লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা
------------------------------------------------------------------
নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা যাপন করতে ,বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চলে-নারীদের কাজের প্রশংসা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।
৮ মার্চ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে- মহিলাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য অর্জনের-উন্নয়ন মূখি-স্বনির্ভরতা অর্জনের শপথের দিনের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়ে থাকে।
নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে আজকের দিনটি।
প্রতিবাদী নারীগণ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কাজের বিনিময়ে
মজুরির বৈষম্য,কর্মের সময় ও ঘণ্টা নির্দিষ্ট করা।
কাজের সময়ে অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় নেমেছিলেন-সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা।
সেই মিছিলে চলেছিল সরকার পক্ষের থেকে লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন অমানবিক নির্যাতন।
১৯০৮ সালে সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ আমেরিকা নিউ ইয়র্কে-বস্ত্র শিল্পের নারী শ্রমিকেরা কাজের সম্মান ও নারী কর্মীগণের কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মঘট শুরু করেন।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করার কারণে,
নারীদের মৃত্যুহার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল।
নারী পারিশ্রমিকের বেতন ছিল-পুরুষ শ্রমিকদের অর্ধেক এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে ভোট দেওয়ার অধিকারও ছিল না।
নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কাজ এবং সমমানের
বেতনের দাবিতে বনধ চলতে থাকে।
১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত হয়।
নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়ে ছিল।
ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ এবং
জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী কার্যালয়ের নেত্রী ছিলেন।
১৯০৯ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আমেরিকায় নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছিল।
১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়-দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এই
সম্মেলনে যোগদান করে ছিলেন।
১৯১০ সালে কোপেনহেগেনের উদ্যোগের পর,
১৯ মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইৎজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে ছিল।
১৯১০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে কর্মজীবী নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
১৭টি দেশের শ্রমিক সংগঠন, সমাজতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতিনিধি ছাড়াও ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রথম তিন নারী সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
নারীর কাজের অধিকার, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কাজের বৈষম্যের অবসানের জন্য প্রতিবাদ করেন লক্ষ লক্ষ নারীগণ ।
রাশিয়ার মহিলা শ্রমিকরা ২৮ শে ফেব্রুয়ারি নারী দিবস উদযাপনের সময়ে রুটি ও শান্তি'র দাবিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করার মধ্যে দিয়ে,প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরোধিতা ও প্রতিবাদী আন্দোলন সংগঠিত হয়।
৮ মার্চ ইউরোপের মহিলারা শান্তিরক্ষা কমিটির কর্মীদের সমর্থনে এক সমাবেশের আয়োজন করেন।
এবং নারী শ্রমিকদের শান্তি বিষয়ক,কার্যক্রমকে সমর্থনের মাধ্যমে-লক্ষ লক্ষ নারীগণ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।
১৯১১ সালের ১৯ মার্চ ক্লারা জেতকিন নামের
এক নারী নেত্রী সম্মেলনে আন্তর্জাতিকভাবে নারী দিবস পালনের প্রস্তাব করেন।
নারী অধিকারের ওপর জোর দেওয়ার জন্য, প্রত্যেক দেশে রাষ্ট্রীয় নায়কদের অনুরোধ করেন- প্রতি বছর অন্তত একটি দিন নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব রাখেন।
সম্মেলনে হাজার হাজার নারী কর্মীদের উপস্থিতিতে
ও প্রায় ১০০ নারী প্রতিনিধি সর্বসম্মতভাবে নারী দিবসের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়ে ছিল।
ক্লারা জেতকিনের নেতৃত্বে ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ, প্রথম নারী দিবস পালিত হয়।
এ দিনটিকে বেছে নেওয়ারও পেছনে কারণ ছিল। জার্মানকেন্দ্রিক প্রুসিয়ান সম্রাট নারী কর্মীদের, অনেক অঙ্গীকার দিয়ে ছিলেন কিন্তু অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বিপ্লবের মুখে পড়ে ছিলেন।
নারীদের ভোটাধিকার দেওয়াও ছিল,সেই অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১৯১৩-১৯১৪ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে,
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতিবাদ জানানোর -একটি প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে।
আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চ দিনটিকে, প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন।
১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা,প্রতি টি রাষ্ট্রদের নারী অধিকার ও বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য জাতিসংঘ দিবস হিসাবে ৮ মার্চকে ঘোষণা করার আহ্বান জানায়।
============================
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন