বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

কবিতা সংকলন

অতৃপ্ত ভালোবাসা
গদ্য কবিতা
       লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা

সদানন্দ ভাবে বাল্যকালে বিবাহিত মহিলার সঙ্গ লাভ।
যৌবনের সন্ধিক্ষণে বৌদির প্রেমের আগুনে লিপ্ত।

বাল্যকাল থেকে অন্তরে ভালবেসে ছিলাম যারে, পূর্ণ যৌবনে ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান-বিয়ে করে অন্য পুরুষ।

হঠাৎ একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর বোন সাবিনা প্রকাশ্যে রাস্তার মাঝে করে প্রেম নিবেদন।

আভিজাত্য পরিবারের শিক্ষিত, সুন্দরী,হটকারী বুদ্ধি যুক্ত-পুলিশ অফিসারের এক মাত্র আদরের দুলালী।

সদানন্দ সাবিনার ভালোবাসাকে প্রত্যাখ্যান করায়, সাবিনা আত্মহত্যা করতে গিয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।

সাবিনা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লড়াই করে, সদানন্দের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি করায়।

সদানন্দ কে আহ্বান করে বদ্ধ ঘরে একান্তে সাবিনা বলে তোমার জীবনের ইতিহাস সবই জানা, 
ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তুমি দাদার বন্ধু।
একটু একটু করে হৃদয়ের মাঝে সঞ্চয় করে রেখেছি , 
তোমার জন্য দেহ-মন-প্রাণ-ভালোবাসা।

তুমি সমাজের চোখে হয়ে আছো অপরাধী কিন্তু তোমাকে সবাই ব্যবহারের মাধ্যমে-দোষী সাব্যস্ত করে।

সদানন্দ বলে আমি তোমার প্রেমের মর্যাদা দিতে পারব না কারণ হিন্দু-মুসলমানে বাঁধবে দ্বন্দ্ব আর
ধর্ম ছেড়ে নারীর কারনে ধর্মান্তরিত হতে চাই না।

সাবিনা বলে কি আছে তোমার মধ্যে!অশিক্ষিত অষ্টম শ্রেণি পাস বেকার চরিত্রহীন পুরুষ নামে খ্যাত।

সদানন্দ বলে জানো তবে ছাড়ছো না! কেন সঙ্গ ?

সাবিনা বলে লড়াই করে আদায় করে নিতে হবে, জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গনের মাধ্যমে চুম্বন করতে থাকে।

সাবিনা প্রতারণার মাধ্যমে জোর করে মিলনে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং বিবাহের প্রস্তুতি নিতে বলে।

সাবিনার কারণে সদানন্দ পরিবার থেকে হয় ত্যাজ্যপুত্র।
====================================
জাতের নামে বজ্জাতি
গদ্য কবিতা
        লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা

ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে-জাত পাতের লড়াই।
উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার দক্ষিণা গ্রামের ঘটনা।
হরিজন অরুণ,ভালবেসেছে উচ্চবর্ণের বিশাখা কে।
জল মানুষের জীবন কিন্তু গ্রামের মধ্যে দেখা যায় ।
জলের ব্যবস্থা আছে,উচ্চবর্ণের আলাদা কুয়া -
নিম্নবর্ণদের আলাদা কুয়া ব্যবহার করতে হয়।
ভুলবশত উচ্চবর্ণের কুয়া কে, ছুঁয়ে দেয় নিম্নবর্ণ।
কুয়ার ব্যবহার হবে বন্ধ ,সাজা পাবে নিম্নবর্ণের।
বিশাখা-অরুণ অন্তরঙ্গভাবে মগ্ন ছিল,পড়ে যায় ধরা।
উচ্চবর্ণেরা গৃহ বন্দি করে-চালিয়ে যায় নির্যাতন।
গোপন সালিশে ডাকা হয়, বিশাখার বাবা কে।
বিশাখার বাবা বলে,মেয়ে নিম্ন বর্ণে মেলামেশা করে- 
উচ্চ বর্ণের জাত-কুল-মান সব নষ্ট করে দিয়েছে।
ফিরিয়ে নিতে চাই না-নিম্ন বর্ণের ঘরে দিতে পারিনা।
দীর্ঘ সময় আলোচনার পরে,বিচারক মন্ডলী রায়-
দিতে হবে মৃত্যুদণ্ড,জঙ্গলের মাঝে পরিত্যক্ত কুয়া'য়।
দুই জনের হাত-পা বেঁধে ফেলে দিতে হবে।
নিম্নবর্ণের মানুষেরা আতঙ্কিত মৃত্যুর ভয়ে-কোনদিন উচ্চবর্ণের মেয়ের সঙ্গে,মেলামেশা করতে আসবে না।

অন্ধকারের গভীর রাতে নিয়ে চলে গভীর জঙ্গলে।
কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে, জঙ্গলের কাঠ পাতা সঙ্গে কেরোসিন তেল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দুজনের দেহ। 


                        ============================
============================
প্রতিশ্রুতি লংঘন * গদ্য কবিতা
লেখক :- শংকর হালদার শৈলবালা
দত্তপুলিয়া, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
====================================
ভোট আসে ভোট চলে যায়।
জনগণের কি লাভ হয় ?
নির্বাচন উপলক্ষে অংশ নেওয়া,
সমস্ত প্রার্থী ঘরে ঘরে এসেছিলেন।
এবং তারা সকলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
যে এবার তারা জিতলে এটি জনগণের বিজয় হবে। তারপরে একই ঘটনা ঘটে, যা সর্বদা ঘটে চলেছে।
এ সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে,
আমরা যদি নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে থাকি-
তবে তিনি, আমাদের স্বার্থে কাজ করবেন। 

তবে পরে তিনি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে, আমাদের যে আশা ছিল,
তা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
পাঁচ বছর তিনি আমাদের বাড়িতে যাননি।
দেশের গুপ্তধন সন্ধান এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরে-তারা মন্ত্রীদের সাথে গোপন বৈঠক করার সুযোগ পাননি।

আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে,
কোন প্রতিশ্রুতি মনে আছে?
আমরা যথারীতি আমাদের,
জীবনের গাড়ি টানতে থাকি।

তখন করোনা ভাইরাসের মহামারীটি,
আমাদের সকলকে আঘাত করেছিল-ঘরে বন্দি। 
আমাদের দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার,
অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। 

এমনকি যদি ,রাজনৈতিক নেতারা আসে-
তবে, আমাদের মুখে মুখোশ রাখার জন্য।
একে অপরের থেকে-আমাদের দূরত্ব বজায় রাখতে, এবং করোনার বিস্তার বন্ধ করতে-
নির্দেশ দিতে এসেছিল।
আমরা তাদের নির্দেশাবলী অনুসরণ করি নি।
  আমরা যদি কর্মীরা, বাড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকি-তবে কীভাবে! আমরা জীবিকা নির্বাহ করব? 

এখন তারা প্রতিশ্রুতি দেয়-যে, আমরা যদি তাদের নির্দেশাবলী অনুসরণ করি-তবে তারা-
আমাদের জীবনের গ্যারান্টি দেবে।
আমরা বুঝতে পারি নি-যে,আমরা যখন ঘরের বাইরে যাবো না-তখন আমরা কিছু উপার্জন করতে পারবে না কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মুখে 
খাবার তুলে দেবে কি ভাবে ? 

আপনি যখন খেতে কিছু পাবেন না !
তাহলে কীভাবে আমরা বাঁচতে পারি?
তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার জন্য-
দেশের শাসকগোষ্ঠীর নেতারা,
এক মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করেছেন ?

আমরা এখন বাড়ীর উঠোনে উপর দাঁড়িয়ে আছি। বাড়ির বাইরে গেলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত 
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আমরা যদি বাড়িতে বসে থাকি,ভাত-রুটির 
তেল লবণ কাঁচা বাজার আসবে কি করে ?
আমাদের খিদের জ্বালায় রক্ত মাংস খেয়ে ফেলবে। আমাদের অনাহারে অর্ধাহারে থেকে থেকে,
পেটের মধ্যে আগুন লেগেছে। 
আমাদের বোধগম্যতা ছিল-তাদের কথায় বিশ্বাস করে, যারা এমন নেতাদের ভোট দিয়েছিলেন।
আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে-দেশের শাসকেরা
মারাত্মক করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। 
এমনকি তারা শিশুদের নিয়ে কোন কথা বলছেন না।
করোনা ভাইরাসের মধ্যেই , নিজেদের আখের গোছানোর জন্য-চলছে ভোটের মিটিং মিছিল।

লকডাউনে দরিদ্র মানুষেরা খাবে কী ?
আমাদের দেশের সরকার ভাবে-
দরিদ্র শ্রমিকরা নিজেরাই ভোজন করবে।
যদি কোনও লকডাউন হয়, তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনাহারে মারা যাবে। 
তাতে দেশের কি ক্ষতি হবে বরংচ বেঁচে থাকলে,
দেশের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

  জনগণকে যখন অনাহার করতে হবে, তখন করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার ক্ষতি কী?
===================================

কোন মন্তব্য নেই:

কবিতা মালা, ২০২৫ (কবিতা সমগ্র)

 কবিতা মালা, ২০২৫                      লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা  সূচিপত্র   (১) নতুন বছর ২৫  (২) নতুন বছরের শুভেচ্ছা (৩) কালের গহীনে (৪) ব...