বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

বৌমার অত্যাচার শাশুড়ির। ছোট গল্প।

  ।। বৌমার অত্যাচার শাশুড়ির।।

কলমে :- শংকর হালদার শৈলবালা।

সুভদ্রা হালদার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার এলাকার সুভাষ পল্লী গ্রামে বসবাস করেন। দেড় বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তেষট্টি বছরের বৃদ্ধা সুভদ্রা হালদার এখন বড় একা। বড় ছেলে, বউমা খেতে দেয়না। ছোট ছেলে দুমুঠো খাবার দিলে ছোট বৌমার অত্যাচার লাগাম ছাড়া। 

তিন ছেলে মিলিত হয়ে মায়ের কাছে এসে বলে :- "মা, তোমার বয়স হয়েছে। তোমার নামের জমি বাড়ি আমাদের নামে লিখে দাও।
মা সুভদ্রা বলেন :- জমি আছে তার জন্য ঘরে থাকতে পারি এবং অবহেলায় হলেও এক মুঠো খেতে দিচ্ছে। ছেলে-বৌমাদের যা ব্যবহার তাতে জমি বাড়ি লিখে দিলে রাস্তায় ভিখারীর মতন ঘুরে বেড়াতে হবে।

বৌমারা উত্তেজিত হয়ে বলে :- এবার তোমার মজা দেখাচ্ছি। অত্যাচার করে তাড়াতাড়ি মরে ফেলবে।

 ঘরের বারান্দায় বসে ভাবে মনে:- এই বৃদ্ধার সাথে ছেলে ও বৌমা সহ কেউ ভাল করে কথা বলে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ গরম চা---সেটাও জোটে না। ছেলে-বউমা ধোঁয়া ওঠা কাপ হাতে নিয়ে গল্প করছে। এতো সুখের কথা নয়। কিন্তু কাদের জন্য রক্ত জল করে তিলে তিলে এই সংসার গড়ে তোলা, বৃদ্ধা বয়সে ছেলে বৌমার হাতে একটু সেবা পাওয়ার আশা কে না করে।  
আমার স্বামী মরে গিয়ে এই ছেলে বৌমার নরক যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমার স্বামীর জমি,বাড়ি ও ব্যবসা আর আমাকে করে অবহেলা। রাতের শুকনো রুটি অনেক সময় ধরে হজম হতে সময় লাগ তারপর গ্যাস-অম্বল বৃদ্ধি হয়। শেষ বয়সে খিদের বড় জ্বালাতন করে। বেলা গড়িয়ে গেলেও কেউ ফিরে তাকায়না। অথচ সব কিছু ঘরে হচ্ছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ডালে সম্বার দেওয়ার গন্ধে খিদে চাগিয়ে ওঠে। চিত্‍কার করে বলতে ইচ্ছে করে-খিদে পেয়েছে। কিন্তু লজ্জা লাগে। বাইরের কেউ যদি জানতে পারে-গলার স্বর নেমে যায়। তবুও বলতে হবে।
শাশুড়ি সুভদ্রা আস্তে আস্তে বলে :- বড় বৌমা ভীষণ ভাবে খিদে পেয়েছে, কিছু খেতে দাও।
 বড় বৌমা রান্না করতে করতে শাশুড়ির কথা শুনামাত্র তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে শাশুড়ির মুখে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে বলে :- সব সময় শুধু খাই খাই দেখতে পারছেন না, আপনাদের পিন্ডি রান্না করছি। 

সুভদ্রা হালদার ছেলে বৌমার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, দুর্বল শরীর নিয়ে সুভাষ পল্লি গ্রাম থেকে দশ কিলোমিটার পথ হেটে বাদুড়িয়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন।
পুলিশ অভিযোগ পেয়ে দুই বৌমা কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। আর বৃদ্ধা সুভদ্রা হালদার কে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ব্যবস্থা করে।

গ্রামে প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় মেম্বার ও রাজনৈতিক লোকজন থাকে কিন্তু চোখের সামনে বৃদ্ধ মা বাবার অত্যাচার দেখেও না দেখার ভান করে চোখ বন্ধ থাকা, সভ্য নামক আধুনিক সমাজের জন্য লজ্জাজনক সমস্যা নয় কি?
মানুষের মনুষত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছে। ভাবে না তার ছেলে মেয়ের সামনেই তার বাবা মাকে অত্যাচারের অত্যাচারের জর্জরিত করে চলেছে কিন্তু একেবারে জন্য ভাবে না , তার বাবা মায়ের মত একদিন যৌবনকাল পেরিয়ে বৃদ্ধকাল 
আসবে । 

রচনাকাল :- ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ 
দত্তপুলিয়া যুব গোষ্ঠী ক্লাবে থাকাকালীন সময়ে , নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
-------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:

কবিতা মালা, ২০২৫ (কবিতা সমগ্র)

 কবিতা মালা, ২০২৫                      লেখক : শংকর হালদার শৈলবালা  সূচিপত্র   (১) নতুন বছর ২৫  (২) নতুন বছরের শুভেচ্ছা (৩) কালের গহীনে (৪) ব...