।। ছেলের হাতে বাবা খুন।।
কলমে :- শংকর হালদার শৈলবালা।
ভোর বেলা প্রতিবেশী কান্নার আওয়াজ শুনে মহাদেবের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আওয়াজ লক্ষ করে এগিয়ে গিয়ে জানতে পারে কর্মকার বাড়ির বয়স্ক সজল কর্মকার গামছা গলায় দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
একজন ছেলে আর দুটি মেয়ে। ছেলে ঘরের নাতি নাতনি নিয়ে দুঃখের সংসার। ছেলে বৌমার খেতে পড়তে দেয় না। এই নিয়ে অনেক বার গ্রামের মেম্বার সহ কয়েকজন ব্যক্তি কর্মকারের বাড়িতে মিটিং করে। তার ছেলেকে বাবাকে খেতে দেওয়ার জন্য প্রথমে অনুরোধ তারপর হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে। তবুও কোন কাজ হয়নি। সজল কর্মকারের যতদিন শরীরে জোর ছিল, ততদিন লোহা পিটিয়ে দা,কুড়াল ও কাঁচি ইত্যাদি তৈরি করে নিজের জীবন নির্বাহ করেছেন কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় ছেলে বৌমার কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সজল বাবুর তৈরি পাকা বাড়ি কিন্তু তার জায়গা নেই। সজল বাবুর একমাত্র ছেলে তড়িঘড়ি করে লাশ শ্মশানে নিয়ে যায়। এবং চিতায় উঠানোর তড়িঘড়ি ব্যবস্থা চলতে থাকে।
সজল বাবুর আত্মহত্যার চিহ্ন দেখে পাড়ার লোকের সন্দেহ হয় । জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমতা আমতা করতে থাকে সঠিক কোনো জবাব পাওয়া যায় না।
প্রতিবেশীর মধ্যে থেকে তৎক্ষণাৎ পাড়ায় থাকা সহযোগী পুলিশকে ফোন করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই থানার পুলিশ শ্মশানে এসে হাজির হয়। সেই মুহূর্তে সজল কর্মকারের লাশ জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য তার ছেলে আগুন হাতে নিয়ে ঘুরতে থাকে।
পুলিশ তৎক্ষণাৎ কর্মকারের ছেলেকে বাধা দান করে এবং হুকুম করেন লাশকে পোসমাডাম করতে হবে। সজল কর্মকারের লাশকে মর্গে পাঠানো হয় এবং তার ছেলে বৌমাকে আপাতত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পোস্টমাডাম রিপোর্ট অনুসারে আত্মহত্যা করানো হয়েছে। পুলিশ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ভয় দেখিয়ে সজল কর্মকারের ছেলে বৌমা কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়। দুজনে মিলে তার বাবাকে হত্যা করার পর গামছা গলায় বেঁধে দেওয়া হয়। অসুস্থ বাবাকে দেখাশোনা করতে করতে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পুলিশ তার আইনের নিয়ম অনুসারে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এবং মামলা এখন কোর্টে বিচারাধীন।
রচনাকাল :- ২০ ডিসেম্বর ২০২১
দত্তপুলিয়া বাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে , নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
------------------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন